বুধবার, ১১ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আজ শুরু

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় শুরু হচ্ছে। এটি ২০২৬ সালেরও প্রথম অধিবেশন হিসেবে নতুন সংসদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের সূচনা করবে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অধিবেশনে ভাষণ দেবেন, এবং সঙ্গে সঙ্গে স্পিকার, সংসদ নেতা ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের আয়োজন হবে।

অধিবেশন চলাকালে অন্তর্বর্তী সরকার আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের ভবিষ্য্যও নির্ধারিত হবে—কোনগুলো আইনে রূপান্তর করতে হবে, কিংবা বাতিল করতে হবে সেই সিদ্ধান্ত এখানে হওয়ার কথা। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৭২(১) অনুচ্ছেদভুক্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেছেন।

অধিবেশন শুরুর আগে সংসদের কার্যপ্রণালি নির্ধারণের জন্য সংসদীয় কার্য উপদেষ্টা কমিটির একটি বৈঠক হতে পারে, যেখানে অধিবেশনের সময়কাল ও এজেন্ডা চূড়ান্ত করা হবে। প্রথম বৈঠকে সরকারি দলের (ট্রেজারি বেঞ্চ) প্রধান কাজ হবে সরকার যে অধ্যাদেশগুলো আইন আকারে আনতে চায় সেগুলো সংসদে উপস্থাপন করা।

নির্বাচিত সরকার দলের পার্লামেন্টারি লিডার হিসেবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইতোমধ্যে সংসদ নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। বিরোধী দলের নেতা হয়েছেন জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান।

প্রথম বৈঠকে স্বাভাবিক নিয়মে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং নির্বাচিতদের শপথ পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি। সাধারণত বিদায়ী স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন; তবে এবার তা ব্যতিক্রম হবে—কারণ দ্বাদশ সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করার পর গণ্যমান্যভাবে দেখা যায়নি, আর বিদায়ী ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক (টুকু) হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারের কারণে কারাগারে রয়েছে।

সংবিধান অনুযায়ী নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে এবং বছরের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেন। সাধারণত শোক প্রস্তাব গ্রহণের পর রাষ্ট্রপতি ভাষণ করবেন এবং এরপর রাষ্ট্রপতির ভাষণের বিরুদ্ধে ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপনের মাধ্যমে সামাজিক-রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হবে; অধিবেশন জুড়ে ওই প্রস্তাব নিয়েই সঙ্গতিপূর্ণ আলোচনাগুলো হবে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল অনুসারে বর্তমান সংসদ গঠন হয়েছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১২টি আসনে জয়লাভ করেছে, যার মধ্যে বিএনপি একাই পেয়েছে ২০৯টি আসন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট পেয়ে ৭৬টি আসন, যার মধ্যে জামায়াতে ইসলামী একাই পেয়েছে ৬৮টি আসন। নির্বাচিত ২৯৬ জন সংসদ সদস্য গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তাদের শপথ গ্রহণ করেছেন। এদের মধ্যে ২২৭ জন প্রথমবারের মতো সংসদে প্রবেশ করছেন এবং যেসব দল নির্বাচনে জয়ী হয়েছে তাদের প্রয়োজনীয় দলীয় প্রধানরাও প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হিসেবে প্রবেশ করেছেন।

সংবিধান অনুযায়ী সংসদের মেয়াদ প্রথম অধিবেশন থেকে গণ্য করে পরবর্তী পাঁচ বছর; ফলে এই সংসদের মেয়াদ আগামী ২০৩১ সালের মার্চ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। সংসদীয় কার্যপ্রণালি ও বিধি-বিধান অনুসরণ করেই আইন প্রণয়নের সমস্ত কাজ পরিচালিত হবে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, নতুন সংসদের কার্যপ্রণালি, স্থায়ী কমিটির কাজ এবং আইন প্রণয়নের জটিল প্রক্রিয়া বুঝতে সময় লাগবে; বিশেষত সংখ্যালঘু অভিজ্ঞ সংসদ সদস্যদের কারণে শুরুতে কিছু অনিশ্চয়তা বা ব্যতিক্রমী ঘটনা দেখা যেতে পারে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক কে এম মহিউদ্দিন বলেন, ‘এবার নির্বাচিতদের মধ্যে ৭৫ শতাংশের বেশি প্রথমবার সংসদে আসছেন। অনেকেরই কার্যপ্রণালি বিধি সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা নেই; ফলে সংসদীয় আচরণ ও প্রক্রিয়ায় কিছু অসমণতাও দেখা দিতে পারে।’

অধিবেশন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আগামী দিনের কর্মসূচি ও আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা públicas অগ্রাধিকার পাবে, যা মানুষের কাছে সরকারের কর্মপরিধি ও নীতিগত অগ্রগতি কেমন হবে তা পরিষ্কার করবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন