শুক্রবার, ১৩ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রত্যাশার চেয়ে পিছিয়ে ঈদবাজার: কেনাকাটায় নেই আগের উত্সাহ

পবিত্র ঈদুল ফিতর ঘনিয়ে আসলেও রমজানের তিন সপ্তাহ পার হওয়া সত্ত্বেও দেশের ফ্যাশন হাউসে আগের কোনো হুড়োহুড়ি দেখা যাচ্ছে না। দেশের প্রায় ৫ হাজারের বেশি ছোট-বড় ফ্যাশন হাউস ও কয়েক শ’ প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ড উৎসব মৌসুমের ওপর বেশ অংশের বিনিয়োগ নির্ভর করলেও এবারের বাজার চিত্র অনেকটাই মিশ্র এবং কিছুটা হতাশাজনক।

টুয়েলভ, লা রিভ, আড়ং, ক্যাটস আই, রঙ বাংলাদেশসহ জনপ্রিয় ব্র্যান্ডগুলোর সংগ্রহে নতুন নকশা থাকলেও ক্রেতারা আগের মতো সেই ত্বরিত ঝোঁক দেখাচ্ছেন না। ব্যবসায়িরা আশাও করেছিলেন দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণে নতুন সরকার গঠনের পর বাজারের স্থবিরতা কাটবে, কিন্তু বাস্তবে বেচাবিক্রিতে ভালো-মন্দ মিশ্রভাবে দেখা দিচ্ছে।

অনেক ফ্যাশন উদ্যোক্তার গাণিতিক প্রত্যাশা ছিল গত বর্ষের তুলনায় ১০-১৫ শতাংশ বিক্রি বাড়বে। সেই আশা নিয়ে রাজধানীর নামি দামী শপিং মল থেকে শুরু করে অলিগলির আউটলেটগুলোকে উৎসবমুখী সাজানো হয়েছে। তবু খোঁজ নিলে দেখা যায় ক্রেতারা সময় নিয়ে, ধীরগতিতে কেনাকাটা করছেন। বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক, মিরপুর, এলিফ্যান্ট রোড ও আজিজ মার্কেটসহ বিভিন্ন বাজারে মানুষ জামাকাপড় দেখছেন, কিন্তু সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করছেন এবং দামের তুলনায় মানকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। মাসের শেষের হুড়োহুড়িটি এখনো অনুপস্থিত।

কাপড়ের ক্ষেত্রে এবার বাড়তি ঝোঁক দেখা যাচ্ছে হালকা ও নরম সুতি বস্ত্রের দিকে—বিশেষত গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে মানুষ সুতি থ্রি-পিস ও টু-পিসকে বেশি পছন্দ করছে। সিল্ক, খাদি বা বয়েল কাপড়েরও ক্রেতা আছে, কিন্তু সামগ্রিক চাহিদায় সুতি ঝুঁকিই বাড়তি। পুরুষদের মধ্যে আধুনিক কাটিংয়ের পাঞ্জাবি ও পাজামার জনপ্রিয়তা অটুট আছে।

বিভিন্ন এলাকায় বাজারের চিত্র ভিন্ন। রাজধানীর কিছু প্রতিষ্ঠিত আউটলেটে এখনো বিক্রি আশাব্যঞ্জক পর্যায়ে পৌঁছায়নি বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন—তারা অনিশ্চয়তার কথা বলছেন। অন্যদিকে কিছু শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডের দাবি, তাদের বিক্রি গত বছরের তুলনায় অন্তত ২০ শতাংশ বেড়েছে। ফলে রঙের বৈচিত্র্য ও নির্দিষ্ট গ্রাহকগোষ্ঠীর আস্থার কারণে নির্দিষ্ট শপগুলোতে ভালো বিক্রিও হচ্ছে।

পাইকারি বাজারের মন্থর গতি সরাসরি খুচরা শোরুম ও আউটলেটগুলোর ওপর প্রভাব ফেলেছে। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত থাকা ক্রেতারা বর্তমান বাজারের উচ্চ মূল্য ও নিত্যপণ্যের চাপ বিবেচনা করে বেশি সতর্ক হয়ে কেনাকাটা করছেন এবং বাজেট সীমার মধ্যে সেরা পণ্য খুঁজতে বিভিন্ন মার্কেটে ঘুরে যাচ্ছেন। ব্যবসায়ী বিশ্লেষকরা বলছেন, মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা ও Lebenshaltungskosten বা নিত্যপরিকল্প্যের খরচের চাপ সরাসরি ফ্যাশন সেক্টরে প্রভাব ফেলছে।

অবশেষে অনেক ব্র্যান্ডই কয়েকদিন অপেক্ষার আলো ছুঁয়ে রেখেছে—শেষ মুহূর্তে যদি ভিড় বাড়ে, তাহলে উৎসবভিত্তিক এ বাজার চাঙ্গা হয়ে উঠতে পারে; আর যদি না হয়, তাহলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা আছে। সামগ্রিকভাবে এবারের ঈদ কেনাকাটায় যে আস্থার সংকট পড়েছে, তার সমাধান অন্তত পরবর্তী কয়েক দিনের ক্রিয়াশীলতার ওপরই নির্ভর করবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন