ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে হরমুজ প্রণালীতে তেলবাহী জাহাজদের নিরাপত্তা প্রদানে যুক্তরাষ্ট্র এখনও প্রস্তুত নয় বলে জানিয়েছেন দেশের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট। তিনি এই তথ্য দিয়েছেন সিএনবিসি ও সিএনএন-কে দেওয়া পৃথক সাক্ষাৎকারে।
সিএনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাইট জানান, এটা হয়তো শিগগিরই সম্ভব হবে, ‘‘কিন্তু এখন আর নয় — আমরা প্রস্তুত নই।’’ তিনি বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ক্ষমতা ইরানের আক্রমণাত্মক সক্ষমতা এবং সেই সক্ষমতা তৈরিতে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলিকে ধ্বংস করার কাজে পুরো মনোযোগ রেখেছে।
আরেকটি সাক্ষাৎকারে (সিএনএন) তিনি বলেন, গত ৪৭ বছর ধরে হরমুজ প্রণালীকে হুমকির মুখে রেখেছে যে ক্ষমতা, সেটাই নিরস্ত করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনী কার্যকর অভিযান চালিয়েছে। রাইটের কথায়, ‘‘যদি আমারা সেনা না পাঠাতাম, তাহলে ইরান তাদের পারমাণবিক ও ব্যাপক সক্ষম রকেট কর্মসূচির জোরে অল্পদিনের মধ্যেই স্থায়ীভাবে প্রণালীটি দখল করত।’’
রাইট স্বীকার করেছেন যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে জ্বালানি পরিবহনে কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদী সমস্যার সমাধান পেতে হলে স্বল্পমেয়াদি কষ্ট সহ্য করতে হতে পারে।
হরমুজ প্রণালী আরব সাগর ও পারস্য উপসাগরকে সংযুক্ত করা একটি সংকীর্ণ কিন্তু কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুট। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যে প্রতিদিন চলাচল করা তেল ও তরল গ্যাসবাহী জাহাজগুলোর প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ ব্যবহার করে। এরই কারণে এটিকে প্রায়শই ‘জ্বালানির বৈশ্বিক দরজা’ বলা হয়—মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো এখান থেকেই পশ্চিমা বাজারে জ্বালানি রপ্তানি করে থাকে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড করপস (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালীতে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা বন্ধ না করলে হরমুজ দিয়ে চলাচলকারী মার্কিন, ইসরায়েলি এবং তাদের মিত্রদের জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা করা হবে।
এরপর থেকেই রণসংঘাতে জাহাজে আক্রমণের ঘটনা বেড়েছে; ব্রিটিশ সংস্থা ইউকে মেরিটাইম অপারেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত হরমুজ প্রণালীতে দশটির বেশি তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
সম্প্রতি ইরানের শাসনপ্রণালীও হুমকি দিয়েছে প্রণালী বন্ধ করে অপরিশোধিত কাঁচা তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলারে তোলার। এ বিষয়ে রাইট বলেন, এটা সম্ভব হওয়া কষ্টকর বলে তিনি মনে করেন, তবে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অপারেশনের ওপরই দৃষ্টি রাখবে।





