২০১২ সালের ব্লকবাস্টার ‘ককটেল’ যে ভিজ্যুয়াল ও আবেগগত ছাপ রেখেছিল, সেগুলো এখনও অনেক দর্শকের মনে অম্লান। সেই স্মৃতিকে সঙ্গে নিয়ে ফের নতুন আঙ্গিকে বড় পর্দায় ফিরছে ফ্র্যাঞ্চাইজির দ্বিতীয় কিস্তি—’ককটেল ২’। গত শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে বের হওয়া তিনটি ফার্স্ট লুক পোস্টারেই নজর কাড়েছে চলচ্চিত্রটির চারিত্রিক দিক ও মুডের বিচিত্র সংমিশ্রণ।
পোস্টারগুলোতে কৃতী স্যানন, রশ্মিকা মান্দানা এবং শাহিদ আলী খান—তিনেই আলাদা ভঙ্গি ও আবহে ধরা দিয়েছেন। কৃতীকে দেখা গেছে গাড়ির ভেতরে বিশ্রাম মুহূর্তে; তার এই রিল্যাক্সড শটে অনেকেই পুরনো কিস্তির দীপিকা পাড়ুকোনের ‘ভেরোনিকা’ চরিত্রের স্মৃতি পেয়েছেন। রশ্মিকা প্রকৃতির মাঝে ক্যামেরা হাতে ব্যস্ত একজন শিল্পীর মতো ফুটে উঠেছেন, আর শাহিদের প্রতিটি ছবিই রহস্য ও তীব্রতার আভাস দেয়।
কিন্তু সবচেয়ে আলোচিত অংশটি হলো গল্পগত মোড়। তথ্যে বলা হয়েছে, এবার সিনেমার কেন্দ্রবিন্দু কোনো প্রচলিত ত্রিভুজ প্রেম নয়; বরং একটি সাহসী মোড়—কৃতী ও রশ্মিকার চরিত্রদের মধ্যে সমকাম সম্পর্কের আখ্যান পরিচালক হোমী আদাজানিয়া ছবিতে তুলে ধরবেন। রশ্মিকার বিবাহ-প্রাক্কালে এই তথ্য সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে এবং দর্শক মহলে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।
চিত্রগ্রহণ গত ফেব্রুয়ারি মাসে শেষ হয়েছে। এখন চলছে সংগীত রচনা, সম্পাদনা ও অন্যান্য পোস্ট-প্রোডাকশন কাজ। নির্মাতারা ভক্তদের উত্তেজনা আরও বাড়াতে একটি পরিকল্পনা নিয়েছেন—আগামী ১৮ মার্চ প্রচণ্ড উৎসাহের সঙ্গে মুক্তি পাবে ছবিটির টিজার। এই টিজারটি প্রথমবারের মতো বড় পর্দায় প্রদর্শিত হবে চলতি মাসের মেগাবাজেট ছবি ‘ধুরন্ধর ২’–এর প্রিভিউ শোতে।
মূল ককটেলের মুগ্ধতাকর বন্ধুত্ব ও প্রেমের মিশ্রণ—যা সাইফ আলি খান, দীপিকা পাড়ুকোন ও ডায়ানা পেন্টি দিয়ে শুরু হয়েছিল—সেই আমেজ ও ঐতিহ্য সিক্যুয়েলটিও ধরে রাখতে চাইছে। তবে এবার গল্পের থিম ও উপস্থাপনায় আধুনিকতা ও সৃজনশীলতা বেশি দেখা যাবে বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষত সমকাম সম্পর্কের মতো সংবেদনশীল বিষয় বড় পর্দায় কিভাবে গুরুত্ব ও সংবেদন নিয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা নিয়ে দর্শক ও সমালোচকদের কৌতূহল তীব্র।
নির্মাণশিল্প থেকে সাধারণ সিনেমাপ্রেমী—সবাই এখন অপেক্ষা করছেন টিজার ও তার পরবর্তী প্রকাশগুলোর দিকে, দেখার জন্য কীভাবে ‘ককটেল ২’ পুরনো স্মৃতিকে সম্মান রেখে নতুন প্রজন্মের সামনে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করবে।





