বুধবার, ১৮ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আকরিক লোহার দাম টনপ্রতি ১০০ ডলারে পৌঁছার সম্ভাবনা

বিশ্বের শীর্ষ খনি প্রতিষ্ঠান ভেলের মতে, চলতি বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে আকরিক লোহার দাম টনপ্রতি প্রায় ১০০ ডলারে স্থিতিশীল থাকতে পারে। ব্রাজিলভিত্তিক এই কোম্পানি তাদের সাম্প্রতিক ব্যবসায়িক প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দিয়েছেন — বিষয়টি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Hellenic Shipping News‑এেও প্রকাশ পায়।

বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, গিনির সিমান্দু খনিতে উৎপাদন শুরু এবং বড় খনি কোম্পানিগুলোর সরবরাহ বৃদ্ধি বাজারে সরবরাহমাত্রা বাড়িয়েছে। অন্যদিকে প্রধান আমদানিকারক চিনে চাহিদা ধীরে ধীরে কমার ফলে সামগ্রিক ভারসাম্য এমন জায়গায় পৌঁছেছে যেখানে দাম একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে স্থির থাকার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

ভেলের প্রধান নির্বাহী গুস্তাভো পিমেন্টা বলেন, খনি খাত এখন বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের মধ্যেই রয়েছে। পুরনো খনিতে আকরিক উত্তোলন এখন অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়েছে এবং মজুদও কমে এসেছে। ফলে কোম্পানিগুলোকে অনেক ক্ষেত্রেই নিম্নমানের আকরিক উত্তোলনে যেতে হচ্ছে, যা উৎপাদন খরচ বাড়াচ্ছে। এই বাস্তবতার কারণে দীর্ঘমেয়াদি মূল্য পূর্বাভাস টনপ্রতি ৯০ ডলার থেকে বাড়িয়ে প্রায় ১০০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।

ভেলের বাণিজ্যিক ও উন্নয়ন বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট রোজারিও নগুয়েরা বলেন, প্রাকৃতিক ক্ষয় এবং মজুদ কমে যাওয়ার ফলে প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে খনি থেকে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় কোটি টন উৎপাদন সক্ষমতা হারিয়ে যাচ্ছে। এতে এমন একটি বাজার ভারসাম্য তৈরি হয়েছে যেখানে টনপ্রতি ১০০ ডলারের নিচে বিক্রি করা অনেক উৎপাদকদের জন্য আর লাভজনক নয় — এটি বাস্তবে শিল্পের ‘ব্রেক-ইভেন’ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

বাজার বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে ভেল তাদের কৌশলেও পরিবর্তন এনেছে। সাধারণ মানের আকরিকের বদলে তারা এখন উচ্চমানের বা প্রিমিয়াম গ্রেড আকরিক উৎপাদনে জোর দিচ্ছে। কোম্পানির পরিকল্পনায় ২০২৫ সালের দিকে তাদের উৎপাদনের বড় অংশই হবে উন্নত মানের ‘পেলেট ফিড’ ও ‘কারাজাস’ ব্র্যান্ডের আকরিক, যা পরিবেশবান্ধব ইস্পাত উৎপাদনে বেশি ব্যবহৃত হয়।

চীনে চাহিদা কিছুটা কমলেও ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে ইস্পাত শিল্প দ্রুত সম্প্রসারণ করে যাচ্ছে। ভেল আশা করে, এসব অঞ্চলের বাড়তি চাহিদা আগামী কয়েক বছরে বৈশ্বিক বাজারে আকরিক লোহার দামের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

একই সঙ্গে কোম্পানিটি ২০৩০ সালের মধ্যে উৎপাদন ও লজিস্টিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করার পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছে, যাতে ভবিষ্যতে সরবরাহশৃঙ্খল এবং বাজারে টেকসই স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা যায়।

পোস্টটি শেয়ার করুন