ব্রাজিলভিত্তিক খনি কোম্পানি ভেলের সাম্প্রতিক ব্যবসায়িক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে আকরিক লোহার দাম টনপ্রতি প্রায় ১০০ ডলারে স্থিতিশীল থাকতে পারে। বিষয়টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম Hellenic Shipping News-এও প্রতিবেদন হিসেবে এসেছে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, গিনির সিমান্দু খনি থেকে উৎপাদন শুরু হওয়া এবং বড় খনি কোম্পানিগুলোর সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগের প্রভাব বিশ্ববাজারে পড়ছে। অপরদিকে প্রধান আমদানিকারক চীনে চাহিদা ধীরে ধীরে কমতে থাকা শেখান দিয়েছে যে দাম এখন একটি সংকীর্ণ সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।
ভেলের প্রধান নির্বাহী গুস্তাভো পিমেন্টা জানান, খনি খাতে এখন বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন চলছে। পুরনো খনিগুলো থেকে আকরিক উত্তোলন অনেক বেশি ব্যয়সাপেক্ষ হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে মজুদও কমে এসেছে। ফলশ্রুতিতে কোম্পানিগুলোকে তুলনামূলক নিম্নমানের আকরিক উত্তোলনে যেতে হচ্ছে, যা উৎপাদন খরচ বাড়াচ্ছে। এই বাস্তবতাই ভেলকে তাদের দীর্ঘমেয়াদি মূল্য পূর্বাভাস টনপ্রতি ৯০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১০০ ডলারে উন্নীত করতে উদ্বুদ্ধ করেছে।
ভেলের বাণিজ্যিক ও উন্নয়ন বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট রোজারিও নগুয়েরা বলেন, প্রাকৃতিক অবক্ষয় ও মজুদ হ্রাসের কারণে প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে খনি থেকে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় কোটি টন উৎপাদনক্ষমতা হারিয়ে যাচ্ছে। এই ঘাটতি এমন এক বাজার ভারসাম্য তৈরি করেছে যেখানে ১০০ ডলারের নিচে বিক্রি করা অধিকাংশ উৎপাদকদের জন্য আর লাভজনক নয়; তাই এটি শিল্পের কার্যকর ‘ব্রেক-ইভেন পয়েন্ট’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে ভেলও তাদের কৌশলে রূপান্তর আনছে। তারা এখন সাধারণ মানের আকরিকের বদলে উচ্চমানের বা প্রিমিয়াম গ্রেডের আকরিক উৎপাদনে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ২০২৫ সালের দিকে তাদের উৎপাদনের বড় অংশই উন্নত মানের ‘পেলেট ফিড’ ও ‘কারাজাস’ ব্র্যান্ডের আকরিকের দিকে সরে এসেছে, যা পরিবেশবান্ধব ইস্পাত উৎপাদনে বেশি ব্যবহার হয়।
চীনে চাহিদা কিছুটা কমলেও ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর ইস্পাত শিল্পের দ্রুত সম্প্রসারণ ভেলের আশা অনুযায়ী আগামী কয়েক বছরে বৈশ্বিক দামের স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে কোম্পানিটি ২০৩০ সালের মধ্যে উৎপাদন ও লজিস্টিক সক্ষমতা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে।
ভেলের এই বিশ্লেষণ ইঙ্গিত দেয় যে, ভবিষ্যতে আকরিক লোহা দামের ওঠানামা নির্দিষ্ট ভৌত ও আর্থিক কারণে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে — তবে চাহিদা বা বড় কোনো সরবরাহশক হলে পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে পারে।





