রবিবার, ২২শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আকরিক লোহার দাম টনপ্রতি ১০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে

ব্রাজিলভিত্তিক খনি প্রতিষ্ঠান ভেল বলছে, চলতি বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে আকরিক লোহার দাম টনপ্রতি প্রায় ১০০ ডলারে স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা আছে। প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক ব্যবসায়িক প্রতিবেদনে এই পূর্বাভাস জানানো হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম Hellenic Shipping News এ প্রকাশিত হয়েছে।

ভেলের বিশ্লেষকদের মতে, গিনি অঞ্চলের সিমান্দু খনির উৎপাদন শুরু এবং বড় খনি প্রতিষ্ঠানগুলোর সরবরাহ বাড়ানোর কারণে বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহচীনতা কিছুটা শিথিল হয়েছে। অন্যদিকে প্রধান আমদানিকারক চীনে চাহিদা ধীরে ধীরে কমতে থাকায় দাম জোরালো ওঠানামা দেখাচ্ছে না — ফলশ্রুতিতে মূল্য নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে স্থিতিশীল থাকার প্রবণতা দেখা দিলো।

ভেলের প্রধান নির্বাহী গুস্তাভো পিমেন্টা বলেছেন, খনি খাত বর্তমানে একটি বড় কাঠামোগত রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পুরনো খনি থেকে আকরিক উত্তোলন এখন অনেকটাই ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে, মজুদও দিন দিন কমছে। ফলে কোম্পানিগুলোকে তুলনামূলক নিম্নমানের আকরিক উত্তোলনের দিকে ঝুঁকতে হচ্ছে, যা মোট উৎপাদন খরচ বাড়াচ্ছে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘমেয়াদি মূল্য পূর্বাভাস টনপ্রতি ৯০ ডলার থেকে বাড়িয়ে প্রায় ১০০ ডলারে উন্নীত করেছে।

ভেলের বাণিজ্যিক ও উন্নয়ন বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট রোজারিও নগুয়েরা বলেন, প্রাকৃতিক ক্ষয়প্রক্রিয়া ও মজুদ হ্রাসের কারণে বিশ্বজুড়ে খনিগুলো প্রতি বছর প্রায় পাঁচ থেকে ছয় কোটি টন উৎপাদনক্ষমতা হারাচ্ছে। এই ঘাটতি বাজারকে এমন একটি অবস্থায় নিয়ে এসেছে যেখানে টনপ্রতি ১০০ ডলারের নিচে বিক্রি করলেও অনেক উৎপাদক আর লাভে থাকতে পারছে না — এটি এখন শিল্পের জন্য কার্যত ‘ব্রেক-ইভেন পয়েন্ট’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পরিবর্তিত বাজার বাস্তবতা মোকাবেলায় ভেলও তাদের কৌশল বদলাচ্ছে। সাধারণ মানের আকরিকের পরিবর্তে তারা এখন উচ্চমানের বা প্রিমিয়াম গ্রেড আকরিক উৎপাদনে জোর দিচ্ছে। কোম্পানির পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৫ সালের মধ্যে তাদের উৎপাদনের বড় অংশ উন্নতমানের ‘পেলেট ফিড’ ও ব্রাজিলের কারাজাস অঞ্চলের উচ্চগ্রেড আকরিকে কেন্দ্রীভূত হবে, যা পরিবেশবান্ধব ইস্পাত উৎপাদনে জনপ্রিয়।

চীনে চাহিদা কিছুটা কমলেও ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলিতে ইস্পাত খাত দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে। ভেলের আশা, এসব অঞ্চলের বাড়তি চাহিদা আগামী কয়েক বছরে বৈশ্বিক বাজারে আকরিক লোহার দামের স্তবিরতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।

প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, তারা ২০৩০ সালের মধ্যে উৎপাদন ও লজিস্টিক সক্ষমতা বাড়াতে বিভিন্ন বিনিয়োগ ও উন্নয়নপ্রকল্প চালু করবে, যাতে ভবিষ্যতে চাহিদার ওঠানামা মোকাবেলা করা যায় এবং সরবরাহশৃঙ্খল আরও টেকসই করা যায়।

বিশ্লেষকরা বলছেন—সাপ্লাই বেড়েছে, চাহিদা আংশিকভাবে পুনর্বিন্যাস হচ্ছে এবং খনি খাতের অন্তর্নিহিত খরচ বেড়েছে; এসব মিলিয়ে বর্তমান পরিবেশে টনপ্রতি প্রায় ১০০ ডলার একটি যুক্তিসংগত সিস্টেমিক মূল্য হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে।

পোস্টটি শেয়ার করুন