অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় ন্যাশনাল প্রেসক্লাবে সংগৃহীত এক অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বিরোল বিশ্ব পরিস্থিতিকে নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে বিশ্ব জ্বালানির ক্ষেত্রে তেল ও গ্যাস মিলিয়ে একটি সম্মিলিত সংকটের মুখোমুখি, যার প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বিরোল বর্তমান পরিস্থিতিকে ১৯৭০-এর দশকের তৎকালীন তেল সংকট ও ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পরের প্রভাবের সঙ্গে তুলনা করে বিশ্ববাসীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘আজ বৈশ্বিক অর্থনীতি একটি বড় হুমকির মুখে রয়েছে এবং আমি আশা করি যত দ্রুত সম্ভব এই সংকটের সমাধান হবে।’’
আইইএ প্রধান আরো জানান, চলমান সংঘাতে অন্তত ৪০টি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা অত্যন্ত গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা সরবরাহে ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এই অবস্থায় সংকট নিরসনে সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগ জরুরি বলে তিনি জোর দিয়েছেন এবং এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সরকারের সঙ্গে জরুরি মজুত তেল বাজারে ছাড়ার বিষয়ে আলোচনা চালানো হচ্ছে বলে জানান।
ভূ-রাজনীতি ও নিরাপত্তাজনিত অস্থিরতার প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দর পুনরায় বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষত হরমুজ প্রণালি ইস্যু ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের ইরানকে রাখা হুমকির পর বাজার লক্ষণীয়ভাবে অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা গেছে, ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) মে মাসের সরবরাহের মূল্য প্রায় ১.৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের বেশি হয়েছে। সমান্তরালভাবে উত্তর সাগরীয় ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দামও বাড়ে এবং বর্তমানে প্রতি ব্যারেল প্রায় ১১৩.৪৪ ডলারে পৌঁছেছে।
এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরব, তুরস্ক, মিসর ও পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা বাজার স্থিতিশীল করতে সহায়ক হতে পারে। তবু বিরোল সতর্ক করে বলেছেন, যদি সংকট অব্যাহত থাকে তবে বিশ্বের কোনো দেশই এর নেতিবাচক প্রভাব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকতে পারবে না। তিনি দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিয়ে বিশ্বকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।





