মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া, বরিশালের গৌরনদী ও নড়াইলের লোহাগড়ায় পৃথক তিন ঘটনায় তিন গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। ঘটনা ঘিরে স্থানীয়ভাবে চাঞ্চল্য ও নানা অভিযোগ-অভিযোগ ওঠে এসেছে। পুলিশ ঘটনাগুলো তদন্ত করছে এবং ময়নাতদন্তে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ): ভাড়াবাড়ির ফ্ল্যাটে ঝুলন্ত মিলনের দেহ
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার বালুয়াকান্দি এলাকায় মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে একটি পাঁচ তলা ভবনের এক ফ্ল্যাট থেকে মীম আক্তার (২৫) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহটি ফ্ল্যাটের জানালার গ্রিলের সঙ্গে ফাঁস দিয়ে ঝুলানো অবস্থায় পাওয়া যায়। নিহত মীম টেঙ্গারচর ইউনিয়নের বড়ইকান্দি ভাটেরচর গ্রামের মুক্তার হোসেনের কন্যা; তার স্বামী কিবরিয়া ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার বাসিন্দা এবং জাহাজশ্রমিক হিসেবে কর্মরত আছেন।
পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী মীম প্রায় ১১ মাস ধরে স্বামীর সঙ্গে ওই বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। কিবরিয়া সোমবার রাতে কর্মস্থলে গেলে মীম একাই ছিলেন। মঙ্গলবার ভোরে তার মা বাড়িতে এসে দরজা বন্ধ পেয়ে দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া না পায়; স্থানীয়দের সহায়তায় ঘরে প্রবেশ করলে জানালার গ্রিলে মীমকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখেন তারা। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। গজারিয়া থানার ওসি মো. হাসান আলী জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের র порт পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হবে।
নিহতের স্বামী কিবরিয়া বলেন, মীম একা থাকতে ভয় পেত এবং কয়েক মাস ধরে প্রচণ্ড মাথাব্যথায় ভুগছিল; অনেক চিকিৎসা করানোর পরও অবস্থা ঠিক হচ্ছিল না। তিনি জানান, তাদের পরিচয় ফেসবুকের মাধ্যমে এবং পরে বিয়ে হয়।
গৌরনদী (বরিশাল): গাছে ঝুলন্ত, পরিবারে অভিযোগ-হত্যা সাজানো হয়েছে
বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ভোরে উত্তর চাঁদশী গ্রামের একটি বাগান থেকে বিলকিস বেগম (৩২) নামে তিন সন্তানের জননীর মরদেহ গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়রা বলছেন, সোমবার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহের পর রাতের কোনো এক সময়ে এই ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে এলাকার কেউ কেউ বলছেন তিনি অভিমান করে গলায় ফাঁস দিয়েছেন, কিন্তু নিহতের আয়োজিত পরিবারের সদস্যরা দাবি করছেন দীর্ঘদিন ধরেই তাকে নির্যাতন করা হতো এবং হত্যা করে ঘটনাকে আত্মহত্যা দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
নিহতের স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। শ্বশুর আলতাফ গাজী ঘটনার সঙ্গে নিজের কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করে বলেছেন, এটি আত্মহত্যা। গৌরনদী মডেল থানার ওসি তারিক হাসান রাসেল জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ও প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে; আগামী আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
লোহাগড়া (নড়াইল): শিকলে বাঁধা দুই পা, গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় উদ্ধার
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের এড়েন্দা গ্রাম থেকে সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে রীতা বেগম (৪০) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারকালে তার গলায় ওড়না পেঁচানো ছিল এবং দুই পায়ে শিকলবেঁধে রাখা ছিল। নিহত রীতা গ্রামের রবিউল ইসলামের স্ত্রী বলে জানা গেছে।
পরিবার বলছে, রীতা মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন; বাড়ির কেউ না জানিয়ে মাঝে মাঝে বাইরে চলে যেতেন, তাই তাকে আলাদা ঘরে রাখা হতো। স্থানীয়দের বক্তব্য, তিনি সদাশয় ছিলেন, আবার অনেকে অভিযোগ করেন যে পরিবারের লোকজন তাঁকে মানসিক অসুস্থ হিসেবে কলঙ্কিত করে আলাদা ঘরে শিকলবেঁধে রেখেছিল। প্রতিবেশীরা সোমবার ভোরে রীতাকে ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় দেখে চিৎকার করলে পুলিশকে খবর দেয়া হয়। লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুর রহমান জানিয়েছেন, মরদেহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপসংহার
এই তিনটি ঘটনায় পুলিশ পর্যায়ক্রমে তদন্ত করছে এবং ময়নাতদন্তের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার গভীরতা পরিষ্কার হবে। স্থানীয়রা এবং নিহতদের স্বজনদের মধ্যে প্রশ্ন ও অভিযোগ থাকায় প্রতিটি ঘটনার বিষয়ে তদারকি বাড়িয়েছে প্রশাসন।





