ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, গত মঙ্গলবার ভোর থেকে তারা ইসরায়েলের বেন গুরিয়ান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও হাইফা বন্দরের ওপর ব্যাপক ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। বিষয়টি তাসনিম নিউজ ও আল জাজিরা জানিয়েছে।
ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’-এর অংশ হিসেবে ৭৮তম দফায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে লক্ষ করে প্রতিশোধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে অভিযানের উদ্দেশ্য ওৎপত্তিস্থল হিসেবে দেশের পূর্বাঞ্চলের মানুষদের উৎসর্গ করা। এতে উত্তর খোরাসান, খোরাসান রাজভি, দক্ষিণ খোরাসান এবং সিস্তান ও বেলুচিস্তান প্রদেশগুলোর নাম বলা হয়েছে।
আইআরজিসির বক্তব্য অনুযায়ী, এ দফায় ব্যবহার করা হয়েছে যুদ্ধ ড্রোনের পাশাপাশি ইমাদ ও কাদর নামে মাল্টি-ওয়ারহেড ক্ষেপণাস্ত্র। তারা জানিয়েছে, এই লঞ্চ থেকে ইলাত, ডিমোনা এবং উত্তর তেলআবিবের কিছু ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তু এবং ওই অঞ্চল জুড়ে অবস্থানরত কয়েকটি মার্কিন ঘাঁটিকে নির্ভুলভাবে আঘাত করা হয়েছে।
কাতারভিত্তিক আল জাজিরা উল্লেখ করেছে, তাদের প্রতিবেদকরা ঘটনাস্থলে জানিয়েছেন—ভোরের দিকে ড্রোন দিয়ে বেন গুরিয়ান বিমানবন্দরে অবস্থানরত বিমানে জ্বালানি ভরার অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা শুরু করা হয়। আইআরজিসি আরও বলেছে, বিমানবন্দর ও হাইফা বন্দর সংলগ্ন সামরিক এবং মহাকাশ সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোও লক্ষ্যবস্তু ছিল।
একই দিন ইরান বাহরাইন, কাতার, কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতেও ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থান ও ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর কথা জানায়। বাহরাইনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে তাদের উপর হওয়া হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের এক সেনা নিহত হয়েছেন এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন; বাহরাইন ইরানকে এ ঘটনার জন্য দায়ী করেছে।
আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে অপারেশনের পরে বলেন, তারা ‘ঘৃণ্য ও শিশুহত্যাকারী আগ্রাসনকারীদের’ মোকাবিলায় অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি তারা সতর্ক করে দিয়েছে, আইআরজিসি ও বাসিজ বাহিনীর অনেক ইউনিট এখনও সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশ করেনি; প্রয়োজনে তাদের অংশগ্রহণ লড়াইকে আরও তীব্র করে তুলবে।
উল্লেখ্য, উপরোক্ত দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই-বাছাই এখনও সীমিত — সরকারি প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন মিলিয়ে বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে।





