শুক্রবার, ২৭শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সনি লিভে আরিফিন শুভর আন্তর্জাতিক অভিষেক: ‘জ্যাজ সিটি’ ভারতে টপ ট্রেন্ডিংয়ে

বাংলাদেশের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক আরিফিন শুভ দেশের সীমানা পেরিয়ে এবার আন্তর্জাতিক মঞ্চেও খ্যাতি আয়ত্ত করেছেন। সনি লিভে মুক্তিপ্রাপ্ত তাঁর প্রথম ওয়েব সিরিজ ‘জ্যাজ সিটি’ ভারতের দর্শকদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করে ট্রেন্ডিং তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে। মুক্তির কয়েক দিনের মধ্যে সিরিজটি ব্রেকিং রেকর্ড ধরে রেখে টানা দুই দিন (২৩ এবং ২৪ মার্চ) ভারতীয় ট্রেন্ডিং চার্টের এক নম্বর অবস্থানে অবস্থান করছে।

১৯ মার্চ সনি লিভে বিশ্বব্যাপী মুক্তি পাওয়া এই ১০ পর্বের সিরিজটির মোট সময় প্রায় আট ঘণ্টা। মুক্তি পেতেই দর্শক ও সমালোচকদের নজর কাড়তে শুরু করে এবং ভারতের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমগুলোতেও আরিফিন শুভর অভিনয় নিয়ে প্রশংসা এসেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘক্ষণে গড়া পরিশ্রম এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রযোজনা মিলেই এই সাফল্য এসেছে।

সিরিজের কেন্দ্রীয় চরিত্র ‘জিমি রয়’ রূপে আরিফিন শুভ তাঁর দক্ষতা দেখিয়েছেন; চরিত্রটির জন্য তাঁকে বাংলা, হিন্দি, উর্দু ও ইংরেজি—চারটি ভিন্ন ভাষায় সংলাপ বলতেই হয়েছে। বহুভাষাভিত্তিক এই প্রদর্শন ভারতীয় দর্শকদের মন জয় করেছে। উপরন্তু, এই প্রজেক্টের মাধ্যমে সনি লিভ প্রথমবারের মতো তাদের প্ল্যাটফর্মে বাংলা ভাষায় অরিজিনাল কনটেন্ট প্রকাশ করায় বাংলা ভাষাভাষীদের জন্য এটি বিশেষ একটি অর্জন বলে ধরা হচ্ছে।

সিরিজটি পরিচালনা করেছেন বলিউডের নির্মাতা ও চিত্রনাট্যকার সৌমিক সেন, যিনি আগেও সমাদৃত কাজ করেছেন। আরিফিন শুভর বিপরীতে প্রধান মহিলা চরিত্রে অভিনয় করেছেন ওপার বাংলার পরিচিত অভিনেত্রী সৌরসেনী মিত্র। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে শান্তনু ঘটক, অনিরুদ্ধ গুপ্ত, সায়নদীপ সেন, শ্রেয়া ভট্টাচার্য, শতফ ফিগার, অ্যালেক্সান্দ্রা টেলর ও অমিত সাহা প্রমুখকে। এই অভিনেত্রী-অভিনেতাদের রসায়ন ও পরিচালনার দৃঢ়তার সমন্বয়ে সিরিজটি দর্শকমহলে শক্ত ছাপ ফেলেছে।

কাহিনী নির্মিত হয়েছে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ১৯৭০-এর দশকের উত্তাল পটভূমিতে; সেই সময়ের জটিল রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা, মানুষের মানসিক টানাপোড়েন এবং ইতিহাসের মোড় ঘূর্ণনের নাটকীয়তা সিরিজে তুলে ধরা হয়েছে। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে রোমাঞ্চকর গল্পের সংমিশ্রণ সিরিজটিকে সাধারণ থ্রিলারের বাইরে নিয়ে গেছে।

চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রথম প্রজেক্টেই এমন আন্তর্জাতিক সাফল্য অর্জন আরিফিন শুভকে ভারতের বিশাল বিনোদন বাজারে আরও দৃঢ় অবস্থান তৈরিতে সহায়তা করবে। এই অর্জনই প্রমাণ করে যে সঠিক গল্প ও সুযোগ থাকলে বাংলাদেশের অভিনয়শিল্পীরা যেকোনো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে তাদের দক্ষতা উজাড় করে দিতে পারেন।

পোস্টটি শেয়ার করুন