শুক্রবার, ২৭শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রোনানের জোড়া গোলে বাংলাদেশ ২-০ গোলে পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিল

মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে শুরু হওয়া অনূর্ধ্ব-২০ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে রোনান বেঞ্জামিন প্যাটট্রিক সুলিভানের অভিষেকে ঝড় ওঠে। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ২-০ ব্যবধানে জয় পায়; দুই গোলই আসে ওই যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ফরোয়ার্ডের পা থেকে।

ম্যাচ শুরু থেকেই নজর কাড়েন দুই প্রবাসী ভাই—ডেকলান ও রোনান সুলিভান। ডাগআউটে ডেকলান নাম ছিলেও মাঠে রোনানই নিজের খেলা দিয়ে সবাইকে মুগ্ধ করেন। মায়ের (নানি সুলতানা আলম) জন্মসূত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে গভীর সংযোগ থাকা রোনান লাল-সবুজের জার্সি গায়ে নিয়ে স্মরণীয় অভিষেক করে রাখলেন।

মালের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধে বাংলাদেশ বল দখলে অধিকাংশ সময় রাজত্ব করলেও ফিনিশিংয়ে সমস্যা ছিল। কয়েকটি সুযোগ তৈরি হলেও পাকিস্তানের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি মার্ক কক্সের শিষ্যরা, ফলে বিরতিতে গোলশূন্য ড্রই ছিল ফল।

দ্বিতীয়ার্ধে খেলা বদলে যায়। ম্যাচের ৫৪ মিনিটে ডি-বক্সের বাইর থেকে পাওয়া ফ্রি কিক আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নেন রোনান, এবং তাঁর শক্ত ফ্রি-কিক সরাসরি পেঁচিয়ে পাকিস্তানের জালে ঢুকে যায়—গ্যালারিতে থাকা বাংলাদেশি সমর্থকেরা আকুল আনন্দে ঢেকে ওঠেন।

এক গোলের সুবিধা নিয়ে বাংলাদেশ আরও আক্রমণাত্মক হয়। মাঝের সময়ে (৬১ মিনিটের কাছাকাছি) পাকিস্তান সম্ভবত একটি গোল করলেও তা গোলরক্ষককে ফাউল করার অভিযোগে রেফারি বাতিল করে দেন। এরপর ৬৭ মিনিটে শেখ সংগ্রামের নিখুঁত লং পাস থেকে দারুণ একটি হেডে রোনান নিজের ও দলীয় দ্বিতীয় গোলটি করেন।

রোনানের জোড়া গোলের পর পাকিস্তান আরও বেশি খেতে ব্যর্থ করে এবং ম্যাচের বাকি সময়ে বাংলাদেশই একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রেখে সহজ জয় নিশ্চিত করে। শেষ সাইরে দুই ভাই লাল-সবুজের পতাকা কাঁধে নিয়ে দর্শকদের অভিবাদন নেন এবং আগামী ২৮ মার্চ ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচে জয়ের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সুদূর যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারও সরাসরি খেলা দেখছিলেন—বড় ভাই কুইন সুলিভান (বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র দলের সদস্য) ও ছোট ভাই ক্যাভান সুলিভানও রোনানের দুর্দান্ত খেলায় আনন্দিত হয়েছেন। এমএলএস ক্লাব ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের বয়সভিত্তিক দলে খেলা রোনানের এই পারফরম্যান্স অনূর্ধ্ব-২০ দলে প্রবাসী ফুটবলারদের সমর্থনের ধারা আরও শক্ত করেছে।

চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বাংলাদেশের জন্য এই জয় সেমিফাইনালপথকে সহজ করেছে। এখন নজর অধরা ২৮ মার্চের ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে; সেই ম্যাচ জিতলেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ চারে উঠবে প্রতিরক্ষামূলক চ্যাম্পিয়নরা।

পোস্টটি শেয়ার করুন