রবিবার, ২৯শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৫ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আন্তর্জাতিক বিরতিতে রাফিনহার হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি: বার্সার শিরোপা লড়াইতে বড় ধাক্কা

স্প্যানিশ লা লিগা ও উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা দৌড়ে বার্সেলোনা যখন প্রধান প্রার্থীর একজন হিসেবে চূড়ায় ছিল, ঠিক তখনই দুঃসংবাদ এলো দলের উইঙ্গার রাফিনহার কাছ থেকে। আন্তর্জাতিক বিরতিতে ব্রাজিলের হয়ে খেলতে গিয়ে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট লাগায় ২৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডকে মাঠের বাইরে রাখতে হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের ফক্সবোরোতে জিলেট স্টেডিয়ামে ফ্রান্সের সঙ্গে ম্যাচে প্রথমার্ধেই ডান হ্যামস্ট্রিংয়ে অস্বস্তি অনুভব করেন রাফিনহা। বিরতির পর তাকে আর রিস্ক নেওয়া হয়নি এবং মাঠে নামানো হয়নি। পরে ব্রাজিলের মেডিকেল টিমের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় নিশ্চিত হয় যে রাফিনহাকে কমপক্ষে পাঁচ সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হবে।

এ মৌসুমে এটি রাফিনহার একই ধরনের তৃতীয় ইনজুরি, যা কাতালান শিবিরের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। চলতি সিজনে বার্সার হয়ে রাফিনহা ৩১ ম্যাচে ১৯ গোল করেছেন এবং দলের আক্রমণের অন্যতম মূল স্তম্ভ হিসেবে себя প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। কিন্তু বারবার চোটের কারণে তার মৌসুম বারবার বিঘ্নিত হচ্ছে — সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের মধ্যে ১৩টি ম্যাচ এবং জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে আরও তিনটি ম্যাচ মিস করেছিলেন তিনি।

নতুন করে এই চোটের ফলে রাফিনহার মাঠে ফেরার সম্ভাবনা মে মাসের আগ পর্যন্ত কম। এর অর্থ হচ্ছে ক্লাবকে মৌসুমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে তার ওপর নির্ভর করা যাবে না। বিশেষত আগামী দুই সপ্তাহে বার্সার কড়া সূচি মাথায় রেখে তার অনুপস্থিতি বড় ধাক্কা দেবে।

অতীত ও ভবিষ্যৎ ম্যাচের পরিকল্পনায় জটিলতা তৈরি করেছে এই খবর। আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে লা লিগার মেত্রোপলিতানো মাঠে শনি‑বারের ম্যাচের আগে দলের সামনে রয়েছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ কোয়ার্টার ফাইনালের দুই লেগ — ৮ এপ্রিল ও ১৪ এপ্রিল। এই তিনটি হাইপ্রেসার ম্যাচে রাফিনহা ছাড়া পরিকল্পনা সাজাতে হবে কাতালান কোচিং স্টাফকে।

যদি বার্সেলা আতলেতিকোকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালে পৌঁছায়, সেখানে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে আর্সেনাল বা স্পোর্তিং সিপি দেখা যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে রাফিনহার অনুপস্থিতি বার্সার লক্ষ্য হাসিলকে কঠিন করে তুলতে পারে, কারণ ফাইনাল রকমের সময়ে ইন‑ফর্ম একজন উইঙ্গারের অভাব স্পষ্টভাবে অনুভূত হবে।

বার্সেলোনার ফুটবল বিভাগ ও মেডিকেল টিম এখন রাফিনহার দ্রুত এবং স্থায়ী পুনরুদ্ধারে কাজ করছে—কিন্তু একই সঙ্গে দলকে বিকল্প পরিকল্পনা ও ঘরমুখী সমাধান খুঁজতে হবে। শৈর্য্য ও টেকনিকের একসাথে মিশ্রণে কিভাবে এই বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা হবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

সমর্থকরা ও ক্লাব উভয়ই আশা করবেন যে রাফিনহার শরীরে পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও পুনর্বাসন দিলে তিনি শক্তভাবে ফিরে এসে দলের শিরোপা স্বপ্নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন। কিন্তু আপাতত বার্সেলোনার জন্য খেলোয়াড়হীন ছক কষে নেওয়াই জরুরি।

পোস্টটি শেয়ার করুন