শুক্রবার, ৩রা এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২০শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রিন্সের অসম্পূর্ণতায় দর্শকদের কাছে শাকিব খান ক্ষমা প্রার্থী

পবিত্র ঈদুল ফিতরে মুক্তিপ্রাপ্ত শাকিব খান অভিনীত প্রিন্স: ওয়ানস আপন আ টাইম ইন ঢাকা মুক্তির পর থেকেই দর্শকদের মধ্যে ভালো প্রত্যাশা ছিল। তবে মুক্তির পর ছবিটি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে — কারিগরি ত্রুটি, অসংলগ্ন চিত্রনাট্য, দুর্বল ভিএফএক্স ও কালার গ্রেডিং নিয়ে দর্শকরা অসন্তোষ প্রকাশ করেন। দীর্ঘ নীরবতা ভাঙতে গিয়ে গত মঙ্গলবার রাজধানীর একটি মাল্টিপ্লেক্সে আয়োজিত বিশেষ প্রদর্শনীতে শাকিব খান নিজে উপস্থিত হয়ে দর্শকদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা ও দুঃখ প্রকাশ করেন।

শাকিব সরাসরি স্বীকার করেন যে প্রিন্সকে পরিপূর্ণভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি। তিনি সময়সীমা ও প্রশাসনিক জটিলতাকে প্রধান কারণ হিসেবে দাবি করেন। সিনেমাটির নির্মাণশুরুর সময় অনুমোদন নিতে প্রায় তিন মাস বিলম্ব হয়েছে, যার ফলে নির্ধারিত শুটিং শিডিউল ভেঙে পড়ে এবং কাজ তাড়াহুড়োতে করতে বাধ্য হতে হয়। ঈদের কড়াকড়ি শিডিউলের চাপের কারণে বহু দৃশ্য আপস করে কাটাতে হয়েছে বলে জানান তিনি। শাকিব জানান, এটি তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম ছবি যেখানে শুটিং ঈদের এক দিন আগ পর্যন্ত চলেছে; এমনকি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য সময় না থাকা কারণেই বাদ দিতে হয়েছে।

পরিচালক আবু হায়াত মাহমুদের প্রতি দর্শকদের আক্ষেপ থাকলেও শাকিব নির্মাতাকে দোষারোপ করার বদলে সময়ের সংকটকে দায়ী করেছেন। তিনি বললেন, নির্মাতার মেধা থাকলেও সময় না থাকায় কাজটি ঠিকঠাক করা সম্ভব হয়নি। ছবির একটি গান ঈদের এক দিন আগে শুট করা হয়েছিল এবং আরেকটি গান এক শিফটে শেষ করতে হয় — এমন দ্রুতগতির কাজ মান বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে তিনি ‘প্ল্যান বি’ রাখা এবং কাজ আরও সুশৃঙ্খলভাবে করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

বড় পর্দায় প্রদর্শনে বিলম্বও হয়েছে; স্টার সিনেপ্লেক্সের মতো প্রেক্ষাগৃহে ঢোকার ক্ষেত্রে কিছু দিন পিছিয়ে গিয়েছিল ছবিটি। তবু নেতিবাচক রিভিউয়ের মধ্যেও দর্শক প্রেক্ষাগৃহে datang করায় শাকিব তাঁর ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দর্শকদের এই ভালোবাসা ও সমর্থনই তাঁকে ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজের অনুপ্রেরণা দেবে।

বিশেষ প্রদর্শনীতে শাকিবের সঙ্গে ছিলেন অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণ ও জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু। দীর্ঘদিন ধরে গুঞ্জন ছিল যে ফারিণ ছবিটি নিয়ে অসন্তুষ্ট হওয়ায় প্রচারে অংশ নিচ্ছিলেন না; কিন্তু এদিন তিনি উপস্থিত থেকে স্বীকার করলেন যে ‘প্রিন্স’ নিয়ে তাঁর প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।

শাকিব খান এই পুরো অভিজ্ঞতাকে নিজের ক্যারিয়ারের একটি শিক্ষা ও নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা ও সমালোচনার আলোকে ভবিষ্যতে আরও নিখুঁত ও মানসম্মত সিনেমা উপহার দেবেন।

পোস্টটি শেয়ার করুন