ফিফার মার্চ উইন্ডো শেষ হওয়ার পরে প্রকাশিত নতুন র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবলের অবস্থান এক ধাপ পিছিয়েছে। ১৮০তম থেকে নামিয়ে ১৮১তম স্থানে চলে এসেছে লাল-সবুজরা। বিশ্বকাপ বাছাই প্লে‑অফ এবং এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তীব্র লড়াই পুরো টেবিলে প্রতিফলিত হওয়ায় র্যাঙ্কিংয়ে সাময়িক উঠানামা দেখা গেছে।
এই অবনতির বড় কারণ হিসেবে কাজ করেছে ভিয়েতনাম ও সিঙ্গাপুরের বিরুদ্ধে ম্যাচে আশানুরূপ ফল করতে না পারা। মার্চ উইন্ডোর প্রস্তুতি ম্যাচে গত ২৬ মার্চ ভিয়েতনামের সঙ্গে মুখোমুখি হয়ে ০-৩ বনাম হারায় বাংলাদেশ। পরবর্তী এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের ম্যাচে সিঙ্গাপুরের কাছে ১-০ ব্যবধানে পরাজিত হয়ে র্যাঙ্কিংয়ে মোট ৯.১৮ রেটিং পয়েন্ট কমেছে দলের।
মার্চ উইন্ডোতে জাতীয় দল একটি প্রীতি ম্যাচ ও একটি বাছাই ম্যাচ খেলেছিল। ভিয়েতনাম ম্যাচে পারফরম্যান্সে ঘাটতি বজায় থাকায় ও সিঙ্গাপুরের বিরুদ্ধে ঘরোয়া সুযোগ কাজে লাগাতে না পারায় ফলের নেতিবাচক প্রভাব র্যাঙ্কিংয়ে পরিলক্ষিত হয়েছে। ক্রীড়া বিশ্লেষকরা বলেন, এ ধরনের প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে উন্নত টিমগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে ভালো ফল না করলে র্যাঙ্কিংয়ে ওঠানামা থাকবেই।
সিঙ্গাপুর ম্যাচের পর জাতীয় দলের একটি অংশ আজ বিকেলে ঢাকায় ফিরে এসেছে। তবে দলের প্রবাসী ফুটবলাররা প্রত্যেকেই সরাসরি তাদের নিজ নিজ গন্তব্যে পাড়ি জমিয়েছেন। লেস্টার সিটির মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী সিঙ্গাপুর থেকে সরাসরি আজ সকালে ইংল্যান্ড রওনা দিয়েছেন। দলের অন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রবাসী সদস্যেরাও পৃথক গন্তব্যে চলে গেছেন—সামিত কানাডায়, তারিক কাজী ফিনল্যান্ডে এবং জায়ান আহমেদ দুবাই যাচ্ছেন।
অন্যদিকে অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া ও স্থানীয় ফুটবলাররা এখন ঘরোয়া লিগের ম্যাচগুলোতে ব্যস্ত থাকবেন। প্রধান কোচ হাভিয়ের কাবরেরাও ফুটবলারদের সঙ্গে ঢাকায় ফিরে এসেছেন। কাবরেরা নিয়োগ ও স্পেনে ফেরার বিষয়ে নতুন করে জল্পনা ছড়িয়ে পড়েছে; টানা ব্যর্থতা ও র্যাঙ্কিংয়ে অবনতি পর বাফুফের সঙ্গে তাঁর ভবিষ্যৎ চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন ওঠছে। এই কথা নিয়ে ফুটবল অঙ্গণে আলোচনা চলছে এবং ঘরোয়া লিগের বিরতি শেষ হওয়ার পর তাঁর ভূমিকা কী হবে, সেটাই এখন দলের কাজে নির্দিষ্ট হবে।
ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা র্যাঙ্কিংয়ের এই নামকে সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, ভবিষ্যতে উন্নতি করতে হলে প্রস্তুতি, খেলা কৌশল ও বিদেশি খেলোয়ারদের সমন্বয়ে আরও পরিকল্পিত কাজ দরকার। জাতীয় দলের পরবর্তী মিশনে এই ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে কিভাবে ফিরে আসবে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।