আন্তর্জাতিক বাজারে তামার দাম সামান্য পাতন হলেও অ্যান্ট্রি অ্যালুমিনিয়ামের মূল্য বেড়েই চলেছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন বৈশ্বিক অর্থনৈতিক শঙ্কা ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এই ভিন্নমুখী প্রবণতার প্রধান পটভূমি তৈরি করেছে।
গত বৃহস্পতিবার লন্ডনের মেটাল এক্সচেঞ্জে (LME) লেনদেন চলাকালীন তামার দাম 0.4% কমে প্রতি টন 12,267.50 ডলারে নেমে আসে। দিনের শুরুতে এক পর্যায়ে এই ধাতুর দর প্রায় 1.7% পর্যন্তেই পড়ে গিয়েছিল। বিশ্লেষকরা মনে করেন সম্ভাব্য বৈশ্বিক মন্দা এবং বাজারে তামার মজুদ বাড়ার কারণে দাম ধীরগতিতে নেমে যাচ্ছে।
তথ্য বলছে, বর্তমানে তামার মজুদ গত আট বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছে গেছে এবং বছরের শুরু থেকে মজুদ लगभग 150% বাড়েছে—এটাই বাজারে চাপ বাড়ার একটি বড় কারণ। বিনিয়োগকারীরা মার্কিন-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার ফলে অর্থনীতিতে নেতিবাচক ছড় পড়ার আশঙ্কায় সাবধানতামূলক অবস্থান নিচ্ছেন। তবু পূর্বের দিন চীনের ক্রেতাদের তৎপরতা এবং ডলারের আপেক্ষিক নরম হওয়ায় সাময়িকভাবে বাজারে ইতিবাচক সাড়া দেখা গিয়েছিল।
অন্যদিকে, অ্যালুমিনিয়ামের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে—গতবারের তুলনায় 1.5% উত্থান দিয়ে এটি প্রতি টন 3,290.50 ডলারে পৌঁছেছে, যা 20 মার্চের পর সর্বোচ্চ। বিশ্ব অ্যালুমিনিয়াম সরবরাহের প্রায় 9% মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক হওয়ায় সেখানে উত্তেজনা বাড়লে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, এবং সেটিই এ ধাতুর দর বাড়ার পেছনের চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।
রাজনৈতিক ফ্রন্টেও উত্তাপ আছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ শেষের লক্ষ্যে আলোচনার ইঙ্গিত দিলেও ইরান তা প্রত্যাখ্যান করেছে; ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, এই মুহূর্তে যুদ্ধ বন্ধের কোনো আলোচনা পরিকল্পনা তাদের নেই। এই রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ধাতু সূচকে স্পষ্ট প্রভাব ফেলছে।
অন্যান্য ধাতুর বাজারে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে—দস্তার (জিংক) দাম বাড়লেও সিসা (লিড), নিকেল ও টিনের দর কিছুটা কমেছে। অর্থাৎ সামগ্রিকভাবেই ধাতু বাজারে ভূ-রাজনৈতিক ঘটনাবলি ও সরবরাহ-চাহিদার ভারসাম্য মূল্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখছে। শিল্পখাত ও রপ্তানিকারকরা এগুলোকে নজরে রেখে সরবরাহ শৃঙ্খল ও মূল্য ঝুঁকি পরিমাপ করছেন।





