শুক্রবার, ৩রা এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২০শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হাম như বজ্রাঘাতে আসে—আনপ্রিপারড থাকায় সংকটে স্বাস্থ্য মন্ত্রী

দেশে হঠাৎ করে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে অনেকের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, যেন বজ্রপাতের মতো এরকম অপ্রত্যাশিত ঘটনাই ঘটলো। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বুঝিয়েছেন, এই পরিস্থিতির জন্য পূর্ব প্রস্তুতি যেকোনো পর্যায়ে হয়নি। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এক স্বাস্থ্যের সংবাদ সম্মেলনে, এই অনাকাঙ্ক্ষিত হেম্পে পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রতিক্রিয়ায়, সরকার দেশব্যাপী জরুরিভিত্তিতে হামের টিকাদান কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। বিশেষ করে ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের জন্য এই টিকাদান কার্যক্রম চালু করা হচ্ছে, যাতে দ্রুত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। মূল উদ্যোগ হল দ্রুত এবং ব্যাপকভাবে শিশুপালকদের কাছে টিকা পৌঁছে দেওয়া, যাতে এই মহামারীর বিস্তার কমানো যায়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে, বাংলাদেশে সবচেয়ে কম সময়ে এই জাতীয় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। রোববার থেকেই মাঠপর্যায়ে সরাসরি টিকা দেওয়া শুরু হবে। তিনি যোগ করেন, এত অল্প সময়ের মধ্যে এত বড় একটি টিকাদান কার্যক্রম আগে কখনো পরিচালিত হয়নি। বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যেই প্রতিটি উপজেলায় পর্যাপ্ত টিকা ও উপকরণ নিশ্চিত করেছে।

টিকা সরবরাহের বিষয়ে মন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফ থেকে টিকা সংগ্রহের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং দ্রুত টিকাগ্রহণে যে ঘাটতি দেখা যাচ্ছে তা পূরণে সব রকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সরকারের সমন্বিত প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রতিটি বিভাগ একযোগে কাজ করছে।

অভিভাবকদের আহ্বান জানানো হয়েছে, শিশুদের দ্রুত নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে আসার জন্য। সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি, কারণ এই মহামারী মোকাবিলায় এসব পদক্ষেপ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য মন্ত্রী ছেড়ে দেন, যদিও এই মহামারিটি হঠাৎ করে এসেছে, কিন্তু সরকারের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টায় শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চান। রোববারের মধ্যে মাঠ পর্যায়ে ভ্যাকসিন পুশ কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হলে ভাইরাসের বিস্তার রোখা সম্ভব বলে আশা করা হচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের সবাইকে আতঙ্কিত না হয়ে, সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। এই কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার একযোগে কাজ করছে এবং জনগণের সুস্বাস্থ্যের জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ।

পোস্টটি শেয়ার করুন