বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নে আরও একটি বড় অগ্রগতি করেছে। রবিবার (২৯ মার্চ) বিজিএমইএ জানিয়েছে, আরও পাঁচটি কারখানা আন্তর্জাতিক মানের ‘লিড’ সনদ লাভ করার ফলে দেশে মোট সনদপ্রাপ্ত কারখানার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮০টিতে। নতুন যুক্ত হওয়া এই কারখানাগুলোর মধ্যে তিনটি গোল্ড এবং দুইটি প্ল্যাটিনাম রেটিং অর্জন করেছে।
সংগঠনের তথ্যে নতুন সনদপ্রাপ্ত কারখানাগুলোর নাম ও স্থান হলো: নারায়ণগঞ্জের এপিক গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং কোং লিমিটেড ইউনিট-৭, ঢাকার সুরমা গার্মেন্টস লিমিটেড, ধামরাইয়ের নাফা অ্যাপারেলস লিমিটেড ইউনিট-২, সাভারের উইন্টার ড্রেস লিমিটেড এবং চট্টগ্রামের মেহের গার্মেন্টস লিমিটেড।
প্রতিটি কারখানার পয়েন্ট ও অর্জিত ক্যাটাগরি সম্পর্কে জানানো হয়— এপিক গার্মেন্টস ইউনিট-৭ ৬৭ পয়েন্ট পেয়ে লিড বিডি+সি: নিউ কনস্ট্রাকশন ভি৪ এর অধীনে গোল্ড সনদ অর্জন করেছে। সুরমা গার্মেন্টস ৭১ পয়েন্ট পেয়ে লিড ও+এম: এক্সিস্টিং বিল্ডিং ভি৪-গাই এর অধীনে গোল্ড রেট পেয়েছে। নাফা অ্যাপারেলস ইউনিট-০২ ৬৫ পয়েন্টে একই ক্যাটাগরির গোল্ড মান অর্জন করেছে। উইন্টার ড্রেস লিমিটেড ৮৫ পয়েন্ট এবং মেহের গার্মেন্টস লিমিটেড ৮৯ পয়েন্ট পেয়ে প্ল্যাটিনাম সনদ লাভ করেছে, যা সর্বোচ্চ রেটিং হিসেবে বিবেচিত।
বর্তমানে দেশে ১১৮টি প্ল্যাটিনাম ও ১৪৩টি গোল্ড রেটেড লিড সনদপ্রাপ্ত কারখানা রয়েছে। পাশাপাশি বিশ্বের সর্বোচ্চ রেটিংপ্রাপ্ত শীর্ষ ১০০টি লিড কারখানার মধ্যে ৫২টি বাংলাদেশে অবস্থিত, যা দেশের পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নে অদম্য অগ্রগতিকে প্রতিফলিত করে।
বিজিএমইএ ও শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব সনদ ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (ইউএসজিবিসি) কর্তৃক প্রণীত এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন (লিড) মানদণ্ডের ভিত্তিতে প্রদান করা হয়। বৈশ্বিকভাবে এই স্বীকৃতি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই শিল্প ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হিসেবে গণ্য।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব অর্জন সবুজ প্রযুক্তি গ্রহণ, জ্বালানি দক্ষতা, পানি সংরক্ষণ, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস ও উন্নত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ধারাবাহিক ফল। নীতি ও বিনিয়োগ অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত টেকসই হয়ে উঠছে এবং রফতানিতে প্রতিযোগিতা বাড়ছে—বিশেষ করে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বাজারে।
উদ্যোক্তাদের কথায়, লিড সনদ প্রাপ্ত কারখানার পণ্যগুলোতে ‘গ্রিন ট্যাগ’ থাকায় আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে, ক্রেতাদের আস্থায় ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে এবং দরকষাকষিতে সুবিধা সৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে দেশের পোশাক খাতের সার্বিক ভাবমূর্তিও উন্নত হচ্ছে।
গত বছর ২০২৫ সালে এক বছরে সর্বোচ্চ ৩৮টি কারখানা লিড সনদ অর্জন করেছিল, যা দেশের ইতিহাসে এক রেকর্ড হিসেবেই বিবেচিত। বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি টেকসই শিল্পায়নে বিনিয়োগ এবং নীতিগত সহায়তা অব্যাহত থাকে, তবে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ আরও বেশি সংখ্যক পরিবেশবান্ধব কারখানা গড়ে তুলতে পারবে এবং বৈশ্বিক পোশাক শিল্পে নিজেদের নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী করবে।





