নিউজিল্যান্ড বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা শুরু করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এই প্রস্তাবটি উঠে আসে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ১৪তম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের সাইডলাইনে ক্যামেরুনের ইয়াউন্দেতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে।
বৈঠকে নিউজিল্যান্ডের বাণিজ্য ও বিনিয়োগমন্ত্রী টড ম্যাকক্লে এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বৈঠকে অংশ নেন। দুই দেশের মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সোমবার (৩০ মার্চ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের ওপর জোর দেওয়া হয়। নতুন নির্বাচিত সরকারের লক্ষ্য হিসেবে বলা হয়, বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী ভ্যালু চেইনে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত হতে চায় এবং বাণিজ্যভিত্তিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে।
আলোচনায় আঞ্চলিক ব্লক আরসিইপিতে যোগদানের বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহ তুলে ধরা হয় এবং এতে নিউজিল্যান্ডের সহযোগিতা কামনা করা হয়। বাংলাদেশের ভূ-অবস্থান ও ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে এ ক্ষেত্রে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাজার বহুমুখীকরণের অংশ হিসেবে জাপানের সঙ্গে ইতোমধ্যেই অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টিও বৈঠকে উঠে আসে; পাশাপাশি কোরিয়া, সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে।
নিউজিল্যান্ডের মন্ত্রী টড ম্যাকক্লে বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশ আরসিইপির জন্য উপযুক্ত অংশীদার হতে পারে এবং এ বিষয়ে অন্যান্য সদস্য দেশের সঙ্গে সমন্বয়ের আশ্বাসও তিনি দেন। তিনি দ্বিপাক্ষিক এফটিএ আলোচনার প্রস্তাব পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, এই প্রক্রিয়া বাণিজ্য বাড়াবে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ইতিবাচক সংকেত পাঠাবে।
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নিউজিল্যান্ডের মন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানানো হলে তিনি তা গ্রহণ করেন এবং চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বৈঠক শেষে দুই দেশ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নতুন অর্থনৈতিক সহযোগিতার সম্ভাবনা খুঁজে বের করা এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর করার প্রতিশ্রুতি দেন।





