বঙ্গুনার আমতলী উপজেলার আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের সোনাখালী বাজার সংলগ্ন সোনাখালী খালের ওপরের এক গুরুত্বপূর্ণ লোহার সেতু প্রায় ১২ বছর ধরে ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে। সেতুর মাঝের অংশ ধসে যাওয়ায় স্থানীয়দের বসানো নড়বড়ে কাঠের পাটাতনের ওপর দিয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন অন্তত ছয়টি গ্রামের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার মানুষ।
সোমবার (৩০ মার্চ) সরেজমিনে দেখা যায় সেতুর মাঝ বরাবর বড় অংশ ভেঙে খালে পড়ে আছে। সেখানে অস্থায়ীভাবে বাকীব্যক্তরা কাঠের তৎক্ষণিক পাটাতন বসিয়েছেন, তবে তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও টেকসই নয়। সেতুর উত্তরের পাশও আংশিকভাবে ডুবে গেছে। প্রতিদিন শত শত লোক, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও হালকা যানবাহন এই ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের সাঁকো ব্যবহার করে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, ২০০৭ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) লোহার কাঠামোর ওপর ঢালাই করে সেতুটি নির্মাণ করে। কিন্তু ২০১৪ সালে সেতুর মাঝখান ভেঙে পড়ে এবং তখন একটি পণ্যবাহী ট্রলি খালে পড়ে গেলে সেতুর নিষ্পত্তিকরণ আরো জটিল হয়ে ওঠে। ঘটনার পর থেকে দীর্ঘ সময় পার হলেও সেতুটির স্থায়ী সংস্কারের জন্য কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
এই সেতুর ওপর ভর করে সোনাখালী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সোনাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মধ্য সোনাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গেরাবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব সোনাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং মাহবুব আলম মোল্লা মাদ্রাসার শত শত শিক্ষার্থী প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে আসা-যাওয়া করছে।
সোনাখালী স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী মারিয়া বলেন, ‘প্রতিদিন ভয়ে-ভয়ে সেতু পার হই। কখন যে আরও ভেঙে পড়ে, সেই চিন্তা সবসময় থাকে।’ একই প্রতিষ্ঠানের ছাত্র রাকিব জানান, ‘বিকল্প রাস্তা না থাকায় বাধ্য হয়ে এই ঝুঁকিপূর্ণ সেতু ব্যবহার করতে হয়।’ স্থানীয় বাসিন্দা মো. কবির খান বলেন, ‘সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই হাজার হাজার মানুষ চরম ভোগান্তির মধ্যে রয়েছে। দ্রুত সংস্কারের প্রয়োজন আছে।’
আঠারোগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম রিপন বলেন, ‘সেতুটির ভাঙনের খবর হয়ে উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরকে একাধিকবার জানানো হয়েছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে স্থানীয়রা নিজেদের ঝুঁকি নিয়ে কাঠের পাটাতন বসিয়েছে।’
এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইদ্রিস বলেন, ‘সেতুটির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। সরকারি বরাদ্দ না থাকায় এখন পর্যন্ত সংস্কার করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। আমরা সেখানে একটি নতুন গার্ডার সেতু নির্মাণের প্রস্তাব প্রেরণ করেছি। বরাদ্দ পেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।’
স্থানীয়রা সরকারের ত্বরিত হস্তক্ষেপ ও স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা না ঘটে এবং শিক্ষার্থীরা নিরাপদে আসা-যাওয়া করতে পারে।





