রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি মানুষের অন্যতম মৌলিক অধিকার। ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নীতির অধীনে সরকার সর্বজনীন স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত এবং প্রত্যেক নাগরিককে সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে। এ লক্ষ্যে রোগীর মৌলিক পরিচয় ও চিকিৎসাসেবা প্রদানের অবকাঠামো গড়তে ইতোমধ্যে সকল নাগরিককে ইলেকট্রনিক হেলথ (ই-হেলথ) কার্ড প্রদানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
‘বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস পালন হচ্ছে জানলে আমি খুশি।’ এবারের প্রতিপাদ্য ‘স্বাস্থ্য সেবায় বিজ্ঞান, সুরক্ষিত সকল প্রাণ’কে সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিজ্ঞানী, বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল অংশগ্রহণকারীর সহায়তায় একটি সমন্বিত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন ঝুঁকি হ্রাস ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য জরুরি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বাড়ানো ছাড়াও বিনামূল্যে মানসম্মত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, রোগপ্রতিরোধ ও স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়ানো এবং দুর্নীতিমুক্ত স্বাস্থ্যখাত গড়ে তোলার জন্য পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। গৃহীত কর্মসূচিগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে নিবিড় মনোযোগ ও যথাযথ বিনিয়োগের ফলে সামগ্রিক স্বাস্থ্যসূচকে দ্রুত সুফল দেখা যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, মানুষের স্বাস্থ্য, প্রাণী ও পরিবেশের স্বাস্থ্য একে অপরের পরিপূরক। আধুনিক জীবনযাপনের সঙ্গে জড়িত নানা নেতিবাচক প্রভাবে উদ্ভিদ, প্রাণী ও পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব বাড়ছে। তাই বিজ্ঞানের উৎকর্ষকে কাজে লাগিয়ে একটি সমন্বিত স্বাস্থ্যসুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
তিনি সরকারি ও বেসরকারি চিকিৎসক, গবেষক, পরিবেশবিদ, প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞসহ সকল সংশ্লিষ্টকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা মিলিয়ে একটি সর্বজনীন ও কার্যকর স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
শেষে রাষ্ট্রপতি ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সফলতা এবং দেশের জনগণের স্বাস্থ্য রক্ষায় দেশবাসীর কল্যাণ কামনা করেন।