বুধবার, ৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৫শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফ্রান্সে আঞ্চলিক ডার্বিতে রণক্ষেত্র: এক ম্যাচে রেকর্ড ২৪ জনকে লাল কার্ড

ফ্রান্সের মরবিহান অঞ্চলে অনুষ্ঠিত একটি আঞ্চলিক ডার্বি ম্যাচ আচমকাই রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর মাঠেই শুরু হওয়া বাগাড়ামি, গ্যালারির বিশৃঙ্খলা এবং মাঠে জনসাধারণের অনুপ্রবেশের জেরে অপরাধসুলভ পরিস্থিতি তৈরি হলে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে—তবে সবচেয়ে বিস্ময়কর ও নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিয়েছেন রেফারি। তিনি মোট ২৭ জন নিবন্ধিত খেলোয়াড়ের মধ্যে ২৪ জনকে লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বহिष্কার করেছেন, যা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মহলে খলবলে ওঠেছে।

ঘটনাটি ঘটে আঞ্চলিক দ্বিতীয় সারির লিগে আভেনির দে গুইলে ও ইন্দেপেন্ডান্ত দে মোরোনে দলের ম্যাচে। নিয়ত সময়ে খেলাটি প্রতিযোগিতামূলক এবং ৯০ মিনিটের খেলা ২-২ গোলে সমতায় শেষ হয়েছে। কিন্তু শেষ বাঁশির পর দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে তর্ক চরমে পৌঁছায় এবং মুহূর্তেই তা হাতাহাতি ও মারামারিতে রূপ নেয়। পরিস্থিতি এতটাই আধিক্য বর্বর হয়ে ওঠে যে মাঠে থাকা খেলোয়াড়, ডাগআউটের সদস্যরা ও এমনকি কিছু অভিভাবকও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

ফরাসি দৈনিক ওয়েস্ট-ফ্রঁসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশেষত তখন পরিস্থিতি ভয়াবহ এক পর্যায়ে পৌঁছায় যখন মোরোনে দলের এক খেলোয়াড়ের বাবা তার ছেলেকে রক্ষা করতে সরাসরি মাঠে ঢুকে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন সংঘর্ষে লাঠিসোঁটা ব্যবহারেরও ঘটনা ঘটেছে এবং কয়েকজন খেলোয়াড়ের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে, যা গ্যালারিতেও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে দেয়।

এই অরাজকতা থামাতে রেফারি দ্বিধাহীনভাবে নজিরবিহীন হিসেবে মূল্যায়নীয় সিদ্ধান্ত নেন—ম্যাচের জন্য নিবন্ধিত মোট ২৭ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে ২৪ জনকে লাল কার্ড দেখানো হয়। উভয় দলের মধ্যে বিষয়টি বিভক্ত হয়েছে: আভেনির দে গুইলে দলের ১৩ জন ও ইন্দেপেন্ডান্ত দে মোরোনে দলের ১১ জন খেলোয়াড় সেখানে রয়েছেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে কণ্ট্রোল পুনরায় প্রতিষ্ঠা করে, কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত চিত্র ইতোমধ্যেই সৃষ্টি হয়ে গেছে।

আঞ্চলিক ফুটবল কর্তৃপক্ষ এই ঘটনাকে গভীর উদ্বেগজনক হিসেবে বিবেচনা করেছে। তারা জানিয়েছে যে দ্রুত একটি ডিসিপ্লিনারি কমিটি গঠন করে ঘটনার প্রতিটি দিক—ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা—খতিয়ে দেখা হবে। সম্ভাব্য শাস্তির মধ্যে রয়েছে বড় ধরনের আর্থিক জরিমানা, ক্লাব-স্তরে শাস্তি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও অফিসিয়ালদের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদী নিষেধাজ্ঞা।

উল্লেখ্য, আগে ব্রাজিলে ক্রুজেইরো ও অ্যাথলেটিকো মিনেইরো দলের ম্যাচে ২৩ জন খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেখানোর ঘটনা আলোচনায় ছিল; ফ্রান্সের এই ঘটনার পর সেই রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, মাঠে এমন সহিংসতা ও অশান্তি খেলাধুলার নৈতিকতা ও জনপ্রিয়তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায় এবং স্থানীয় কমিউনিটির মধ্যে ক্রীড়ার সৌন্দর্য বজায় রাখতে সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা আরও জোরদার করে।

পোস্টটি শেয়ার করুন