মধ্য ইরানের কাশান এলাকায় একটি রেলসেতু লক্ষ্য করে চালানো হামলায় অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসফাহান প্রদেশের ইয়াহিয়া আবাদ রেলসেতুকে নিকট লক্ষ্য করে আঘাত করা হয়েছে। ইসফাহানের উপ-গভর্নরের বরাত দিয়ে মেহর জানিয়েছে, হামলায় কমপক্ষে দুজন প্রাণ হারিয়েছেন।
হামলার ঠিক পরিপ্রেক্ষিতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী সামাজিক মাধ্যমে ফের সতর্কবার্তা জারি করে বলে জানানো হয়। তাদের ফার্সি ভাষার একাউন্টে ইরানের জনগণকে ‘‘নিরাপত্তার স্বার্থে’’ ট্রেন ব্যবহার থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। বিভিন্ন রিপোর্টে সতর্কবার্তার মেয়াদ নিয়ে কিছু পার্থক্য দেখা যায়—কোথাও বলা হয়েছে স্থানীয় সময় রাত ৯টা পর্যন্ত, আবার বিবিসি জানিয়েছে রাত ১১টা পর্যন্ত ট্রেনে ভ্রমণ না করার আহ্বান জানানো হয়েছিল।
ইরানে কয়েক সপ্তাহ ধরে ইন্টারনেট বন্ধ থাকার কারণে এই ধরনের অনলাইন সতর্কবার্তা সাধারণ মানুষের কাছে ব্যাপকভাবে পৌঁছোবে বলে ধরে নেওয়া যাচ্ছেনা, এ নিয়ে প্রকাশ্যে উদ্বেগ রয়েছে। ইরানের রেল নেটওয়ার্ক দেশের বিস্তৃত অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত হওয়ায় ট্রেন যাত্রীরা, রেলস্টেশন ও লাইনের আশপাশের লোকজনদের নিরাপত্তা গভীরভাবে প্রভাবিত হতে পারে।
একই সময়ে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপে একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে, মেহর এই তথ্য জানিয়েছে। খারগ দ্বীপ ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র, যেখানে দেশটির বহির্মুখী তেলের বড় অংশ তোলা হয়। তবে ওই বিস্ফোরণের প্রকৃতি ও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত এখনও প্রকাশ করা হয়নি এবং এ ঘটনার বিষয়ে এখনো যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
এর আগেও প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খারগ দ্বীপ ও অন্যান্য ইরানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা বা দখলের হুমকি দিয়েছেন বলে গণমাধ্যমে খবরে ছিল। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েক দফা সময় ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র, তেল কূপ ও খারগ দ্বীপকে টার্গেট করার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন। তবে সর্বশেষ হামলাসমূহের সঙ্গে কারা জড়িত তা এখনো স্পষ্ট নয় এবং বিষয়গুলো নিয়ে তদন্ত ও আরও তথ্যের প্রত্যাশা রয়েছে।