বুধবার, ৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৫শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

২০তম টিএমএসএস চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডসে রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপার আজীবন সম্মাননা

বগুড়ার মম ইন হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে সুরে-সংগীতে মুখরিয়ে উঠল উত্তরাঞ্চল — অনুষ্ঠিত হলো দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আয়োজন ‘২০তম টিএমএসএস চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬’। গতকাল মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে নবীন-প্রবীণ শিল্পীদের সম্মিলিত উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে আরো জমকালো করে তুলেছে।

এবারের আয়োজনে সংগীতজগতের বিশেষ অবদানের জন্য ‘আজীবন সম্মাননা’ প্রদান করা হয় নন্দিত কণ্ঠশিল্পী রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপাকে। লোকসংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য বিশেষ সম্মাননা ছাড়াও দেওয়া হয় কিংবদন্তি শিল্পী কাঙালিনী সুফিয়াকে।

অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় সন্ধ্যা সাতটার পর। স্বাগত বক্তব্য রাখেন চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর ও টিএমএসএসের প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক ড. হোসনে আরা বেগম। পরে মঞ্চে এসে বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও নির্মাতা আফসানা মিমি কনকচাঁপার নাম ঘোষণা করলে উপস্থিত দর্শক কৃতজ্ঞতাস্বরূপ করতালে শুমারি করেন। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন প্রধান অতিথির বাসনায় শিল্পীর হাতে সম্মাননা স্মারক, উত্তরীয় এবং অর্থ সম্মানীর চেক প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ এবং চ্যানেল আই ও টিএমএসএসের শীর্ষ কর্মকর্তাবর্রসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। একইভাবে কাঙালিনী সুফিয়াকেও সম্মাননা স্মারক ও আর্থিক সম্মানী প্রদান করে তাঁর সংগীতজীবনের অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।

সাংস্কৃতিক পর্ব শুরুতেই মঞ্চে উঠেন গুণী কণ্ঠশিল্পী রফিকুল আলম, ফেরদৌস আরা এবং অণিমা রায় — তাঁদের একসঙ্গে পরিবেশিত দেশাত্মবোধক গানগুলো অনুষ্ঠানকে উচ্ছ্বসিত করে তোলে। বিশেষ আকর্ষণ ছিল বাংলা সংগীতের দুই জীবন্ত কিংবদন্তি রুনা লায়লা ও সাবিনা ইয়াসমীনের উপস্থিতি ও হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া অপারফর্ম্যান্স। এ ছাড়াও খুরশীদ আলম, বাপ্পা মজুমদার, ইমরান, কোনাল, লিজা, লুইপা এবং ক্ষুদে গানরাজের শিল্পীরা মঞ্চ মাতিয়ে দর্শক মোহন করে তোলেন। ছাড়াও চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস ও অভিনেতা আদর আজাদের নৃত্য পরিবেশনা দর্শকদেরভাবে ভিন্ন মাত্রার বিনোদন যোগ করে।

পুরস্কার পর্বে মোট ১৮টি ক্যাটাগরিতে সফল শিল্পীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। আধুনিক গানে ‘খুব প্রিয় আমার’ গানটির জন্য সেরা শিল্পী নির্বাচিত হয়েছেন লিজা। সেরা সুরকারের খেতাব জিতেছেন বাপ্পা মজুমদার (‘অবশেষে’ গানের জন্য)। ‘প্রেমবতী মা’ গানের জন্য যৌথভাবে সেরা গীতিকার হয়েছেন তারেক আনন্দ ও শাহনাজ কাজী। সেরা ব্যান্ডের মর্যাদা পেয়েছে মেট্রিক্যাল এবং সেরা সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে সম্মানিত হন সেতু চৌধুরী। আধুনিক ধারার ইউটিউব জনপ্রিয়তায় সেরা হয়েছেন এঞ্জেল নূর, আর সেরা দ্বৈত শিল্পীর পুরস্কার পেয়েছেন ইমরান ও সিঁথি সাহা।

ছায়াছিত্রে গান বিভাগের শিরোপা জিতেছেন আতিয়া আনিসা, ‘ছোট্ট সোনা’ গানের জন্য তিনি সেরা শিল্পী হিসেবে সম্মানিত হন। একই গানের জন্য শওকত আলী ইমন সেরা সুরকার এবং রোহিত সাধুখাঁ সেরা গীতিকার নির্বাচিত হয়েছেন। সিনেমায় ইউটিউব ভিত্তিক জনপ্রিয় শিল্পীর খেতাব পায় দিলশাদ নাহার কনা। লোকসংগীতে সেরা শিল্পীর খেতাবজিতেছেন বিউটি, আর ইউটিউব জনপ্রিয়তায় এগিয়ে ছিলেন শরিফ উদ্দিন দেওয়ান সাগর। নজরুল সংগীতে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শন করেন শহিদ কবির পলাশ এবং উচ্চাঙ্গ সংগীতে সেরা হন নাশিদ কামাল। সেরা মিউজিক ভিডিও নির্মাতা হিসেবে সম্মাননাপ্রাপ্ত হন তানভীর তারেক এবং নবাগত শিল্পীর পুরস্কারüse পেয়েছেন সভ্যতা।

এ আয়োজনের পরিকল্পনা ও প্রকল্প পরিচালনায় ছিলেন রাজু আলীম। অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা করেন অপু মাহফুজ ও নীল হুরে জাহান। চ্যানেল আইয়ের দুই দশকের সংগীতযাত্রা ও শিল্পীদের মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে এই আয়োজনকে উপস্থিত সুধী মহলে প্রশংসিত করা হয়। গভীর রাত পর্যন্ত মম ইন হোটেল প্রাঙ্গণে গাওয়া সুর-সংগীতের প্রবাহ বাংলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক উজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন