রবিবার, ১২ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভর্তুকির বাইরে দাঁড়িয়ে জ্বালানি Sector-এ খরচ বাড়ছে ৩৬ হাজার কোটি টাকা

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘর্ষের প্রভাব বিশ্ববাজারে জ্বালানি মূল্যের বিপর্যস্ততার দিকে নিয়ে গেছে। এই অস্থিরতায় বাংলাদেশের ওপর ভর্তুকির চাপ ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। চলমান অর্থবছরের মার্চ থেকে জুন মাসে সরকারকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও এলএনজি খাতে নির্ধারিত ভর্তুকির বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা খরচ করতে হবে। এর ফলে ঘটতে পারে বাজেটের ঘাটতি বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ। একদিকে এই খরচ বাড়বে, অন্যদিকে দেশের অর্থনীতিতে আর একটি বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হবে।

বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী শুক্রবার (১০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে সংসদের ৩০০ বিধি অনুযায়ী বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন যে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও এলএনজির মূল্য দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে যাওয়ায় এই অতিরিক্ত ভর্তুকি প্রয়োজন হচ্ছে। এর সাধারণ ফল হলো বাজেটের ঘাটতি বাড়বে এবং প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অপচয় হবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ১০ দিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল সংঘর্ষ শুরু হয়েছে, যা বিশ্ব জ্বালানি বাজার, সরবরাহ শৃঙ্খল এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। এর প্রভাব সরাসরি বাংলাদেশের ওপর পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও এলএনজির মূল্য দ্বিগুণের বেশি বেড়ে যাওয়ায় এই খাতে অতিরিক্ত খরচের ভার বহন করতে হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত সরকারের জন্য এই অতিরিক্ত খরচ প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা হবে, যা বাজেটের ঘাটতি বাড়ানোর পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার জনগণকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত অফিস-আদালত বিকেল ৫টার পরিবর্তে ৪টায় বন্ধ, সোডিয়াল আলোর ব্যবহার বৃদ্ধি, এসির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, মার্কেট ও সুপারমার্কেটগুলো সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ করা, বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ ও সরবরাহ নিশ্চিত করা, সাথে ভর্তুকির অর্থ সময়মতো বিতরণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জ্বালানি খরচ কার্যকরভাবে পরিচালনা করা। এছাড়া, অর্থমন্ত্রী আরও জানান যে, বিশেষ পরিস্থিতি মোকাবিলায় উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত বাজেট সাপোর্টের আশ্বাস নেওয়া হচ্ছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমানোর জন্য এই সব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি একান্তই import-dependent। সেক্ষেত্রে বৈশ্বিক অবস্থার প্রভাব আমাদের ওপর পড়তেই পারে, তবে সরকার পরিস্থিতির সঙ্গে জোড় হাতে মোকাবিলা করছে। সরকার ইতিমধ্যেই পরিস্থিতির উপর নজর রেখে আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং অর্থনীতিকে টেকসই ও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আশ্বাস দেন যে, সরকার এই কঠিন সময়ে জনগণের কষ্ট কমাতে চেষ্টা করছে এবং ভবিষ্যতের জন্য তারা একসঙ্গে এগিয়ে যেতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে সরকার আশা করে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে। তারা সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ওপর ভিত্তি করে সম্পূর্ণ এগোচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীসহ এই সরকারের নেতৃত্বে দেশের অর্থনীতি উন্নত এবং স্বাবলম্বী করার জন্য তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলেও, বাংলাদেশ ভবিষ্যতকে স্বাগত জানিয়ে এগিয়ে যাবে সম্প্রীতি, দায়িত্বশীলতা এবং টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলার মাধ্যমে।

পোস্টটি শেয়ার করুন