মঙ্গলবার, ১৪ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা বৈশাখ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তামাক কর সংস্কারে রাজস্ব আয় বাড়তে পারে ৮৫ হাজার কোটি টাকায়

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তামাক কর ও মূল্য কাঠামো সংস্কারের মাধ্যমে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাজস্ব আয় বাড়িয়ে মোট প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকার দিকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। বাজেটে চারটি মূল্যস্তরকে তিনটির মধ্যে সীমিত করা, প্রতি ১০ সিগারেটের প্যাকে ৪ টাকা নির্দিষ্ট শুল্ক আরোপ এবং অন্যান্য করবিধি জোরদার করার সুপারিশ করা হয়েছে। এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে অতিরিক্ত প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব বাড়ানোর সম্ভাবনা দেখাচ্ছে।

‘তামাক কর ও মূল্য পদক্ষেপ: বাজেট ২০২৬-২৭’ শীর্ষক কর্মশালায় এসব প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। রোববার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বিএমএ ভবনে যৌথভাবে এ কর্মশালা আয়োজন করে প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) ও অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স (আত্মা)। কর্মশালায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ডেটা-ভিত্তিতে কর ও মূল্য সংস্কারের সামাজিক, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়।

প্রতিনিধিরা জানান, প্রস্তাবগুলো গ্রহণ করলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের মধ্যে তামাকসেবন কমে যাবে, নতুন করে তরুণেরা ধূমপান শুরু করবে না এবং অকাল মৃত্যুর হার কমবে। একই সঙ্গে কর কাঠামো সরল হলে প্রশাসনিক জটিলতা নেমে আসবে এবং কর সংগ্রহ কার্যক্রমও সহজ হবে।

প্রস্তাবিত মূল পয়েন্টগুলো হলো:

– বর্তমানে চারটি মূল্যস্তর তিনটিতে সংকুচিত করা।

– নিম্ন ও মধ্যম স্তর একত্র করে প্রতি ১০ সিগারেটের খুচরা মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণ, উচ্চ স্তর ১৪০–১৫০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তর ১৮৫–২০০ টাকা বা তার বেশি রাখা।

– খুচরা মূল্যের ওপর ৬৭ শতাংশ আধ্যাত্মিক (ad valorem) সম্পূরক শুল্ক বজায় রেখে প্রতিটি ১০ সিগারেটের প্যাকে অতিরিক্ত ৪ টাকা নির্দিষ্ট শুল্ক আরোপ।

– বিড়ি, জর্দা ও গুলের ওপর নির্দিষ্ট হারভিত্তিক শুল্ক আরোপ করার সুপারিশ।

– সব তামাকপণ্যের খুচরা মূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ১ শতাংশ স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ বজায় রাখা।

কর্মশালার উপস্থাপনা অনুযায়ী, এই সংস্কার কার্যকর হলে চলতি অর্থবছরের তুলনায় পরবর্তী অর্থবছরে তামাক খাত থেকে রাজস্ব প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা বাড়বে এবং মোট রাজস্ব আয় দাঁড়াবে প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকায়। স্বাস্থ্যগত প্রভাব হিসেবে বলা হয়েছে, প্রায় ৫ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপান ত্যাগে উৎসাহিত হবে এবং প্রায় ৩ লাখ ৭২ হাজারের বেশি তরুণ ধূমপান শুরু করা থেকে বিরত থাকবে। দীর্ঘমেয়াদে প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার তরুণসহ মোট ৩ লাখ ৭০ হাজারের বেশি মানুষের অকাল মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে বলে বিশ্লেষণে বলা হয়েছে।

অ্যাগ্রো-অর্থনৈতিক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এ ধরনের কর সংস্কারের পক্ষে এবং তা দ্রুত বাস্তবায়নের পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, সঠিক নকশার একটি কর কাঠামো একই সঙ্গে রাজস্ব বাড়াবে, জনস্বাস্থ্য রক্ষা করবে এবং দরিদ্র-শ্রমজীবী শ্রেণির ওপর অননুপাতে প্রভাব কমাবে। এখন সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে নীতিনির্ধারক ও বাজেট প্রক্রিয়ার উপর।

পোস্টটি শেয়ার করুন