পান্তা-ইলিশ, ঢাক-ঢোল আর উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন করল দেশের ক্রীড়াঙ্গন। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাজধানীর পল্টন ময়দানে দিনব্যাপী আয়োজিত বৈশাখী ক্রীড়া উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।
দীর্ঘ ২০ বছর পর অনুষ্ঠিত এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাঙালির লোকজ ঐতিহ্য ও গ্রামীণ খেলাধুলাকে সংরক্ষণ ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরাই সরকারের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যে আগামী বৈশাখ থেকে মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সহযোগীদের সমন্বয়ে দেশের প্রতিটি জেলায় গ্রামীণ ক্রীড়া উৎসব আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, এর উদ্দেশ্য নতুন প্রজন্মকে হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলোর সঙ্গে পরিচিত করা এবং স্থানীয় সংস্কৃতিকে উজ্জীবিত করা।
প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে নারী ক্রীড়াবিদদের উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। পুরুষ ক্রীড়াবিদদের পাশাপাশি নারী ক্রীড়াবিদদেরও সুসংহতভাবে এগিয়ে নেওয়ার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং শিগগিরই নারী ক্রীড়া সংক্রান্ত একটি বড় ঘোষণা আসার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, প্রধানমন্ত্রীও নারী ক্রীড়াবিদদের জন্য বিশেষ কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন যা দ্রুত বাস্তবায়িত হবে।
খেলাধুলাকে সামাজিক পরিবর্তনের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার আখ্যায়িত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেম জাগ্রত করা এবং সমাজে শৃঙ্খলা গড়ে তোলার জন্য ক্রীড়ার ভূমিকা অপরিসীম। তিনি সবাইকে ক্রীড়াকে সামাজিক উন্নয়ন ও নৈতিকতাবোধ বৃদ্ধি করার মাধ্যম হিসেবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।
দিনব্যাপী এই উৎসবে আর্চারি, কাবাডি, ভলিবল, কুস্তি, লাঠিখেলা ও বলিসহ মোট ১২টি গ্রামীণ ও জাতীয় পর্যায়ের খেলা প্রদর্শন করা হয়। উৎসবে অংশগ্রহণকারী ক্রীড়াবিদদের মধ্যে নানান জেলা ও সংগঠনের প্রতিভাবান খেলোয়াড় দেখা যায়, আর দর্শকরা উপভোগ করেন লোকসঙ্গীত ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম এবং এশিয়ান আর্চারি ফেডারেশনের সভাপতি কাজী রাজীব উদ্দিন চপলসহ অন্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
উৎসবটি স্থানীয়ভাবে হারিয়ে যাওয়া খেলার মানচিত্র তৈরি এবং গ্রামীণ ক্রীড়ার পুনরুজ্জীবনে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে বলে Veranstaltungsকারীরা আশা প্রকাশ করেছেন। মন্ত্রণালয়ও আশ্বস্ত করেছে যে এ ধরনের আয়োজন ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন জেলায় প্রসারিত করা হবে, যাতে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি একসঙ্গে বিকশিত হয়।