বুধবার, ১৫ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিজিএমইএ’র সঙ্গে বৈঠকে পোশাক খাতে নিরবিচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতের আহ্বান

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ দেশী তৈরি পোশাক খাতে গ্যাস ও বিদ্যুৎসংকট দ্রুতভাবে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বললেন, খাতে উৎপাদন বন্ধ না রাখার জন্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সরকার ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের অগ্রাধিকার হবে।

মন্ত্রণালয়ে বিজিএমইএ (বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি) প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এসব কথা বলেন। বৈঠকে পোশাক খাতে চলমান জ্বালানি সঙ্কটের প্রভাব ও সমাধান বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা ফিরলেও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘর্ষ বিশ্ববাণিজ্যে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর জ্বালানি নিরাপত্তা কায়েম থাকায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প চাপে পড়েছে।

তিনি জানান, পর্যাপ্ত গ্যাস ও বিদ্যুৎ না থাকার কারণে অনেক কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা বর্তমানে মাত্র ২৫ থেকে ৩০ শতাংশে নেমে এসেছে। বিশেষত গাজীপুর ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে ঘনঘন লোডশেডিং ও জেনারেটরের জন্য ডিজেলের ঘাটতি উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রমে বড় বাধা সৃষ্টি করছে।

সংকট মোকাবিলায় বিজিএমইএ several প্রস্তাব উপস্থাপন করে। তারা দাবি করেন ফিলিং স্টেশনের কাছ থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় দ্রুত ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে, ছোট ও মাঝারি শিল্পকে জরুরি ভিত্তিতে গ্যাস সংযোগ দিতে এবং ঢাকার আশপাশের সব শিল্পাঞ্চলে সমানভাবে গ্যাস সরবরাহ করা।

আরও বলা হয় অতিরিক্ত FSRU (ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট) দ্রুত স্থাপন, শিল্পখাতে EVC মিটার স্থাপনের প্রক্রিয়া সহজ করা এবং আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর বিদ্যমান শুল্ক ও ভ্যাট কমিয়ে উৎপাদন খরচ হ্রাস করা।

নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন নিশ্চিত করতে পোশাক খাতে সোলার পিভি সিস্টেমের যন্ত্রপাতি আমদানিতে বিশেষ শুল্কছাড়ের দাবি তোলা হয়। বিজিএমইএ জানিয়েছে সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, ডিসি ক্যাবল ও ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (বিইএসএস)-এর ওপর বর্তমান শুল্ক যা ২৮.৭৩ শতাংশ থেকে ৬১.৮০ শতাংশের মধ্যে রয়েছে, তা এক শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী প্রস্তাবগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করার এবং দেশের অর্থনীতিতে পোশাক খাতের অবদান রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে নিকটবর্তী ফিলিং স্টেশন থেকে ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিজিএমইএ’র প্রস্তাবিত ফরম্যাটও অনুমোদন করা হয়।

বৈঠকে জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ও মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভাপতি ও মন্ত্রীরা আশা ব্যক্ত করেন, ত্বরান্বিত ও সমন্বিত পদক্ষেপে শিগগিরই খাতের উৎপাদন ও রফতানি কার্যক্রম স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে আসবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন