শনিবার, ১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে দারিদ্র্য বৃদ্ধির ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সেনাবাহিনী ও রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নানা দেশ মানব উন্নয়নের অগ্রগতি ঝুঁকির সম্মুখীন হয়েছে। বিশেষ করে দরিদ্র মানুষের জীবিকা কঠিন হয়ে পড়ছে, কারণ প্রবাসী আয়ের ওপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। নতুন করে শ্রমবাজারে অচলাবস্থা সৃষ্টি হচ্ছে, দেশের শ্রমিকরা চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মূল কারণ হলো জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়া, এবং রেমিট্যান্স প্রবাহে স্বল্পতা। এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বাংলাদেশের গত কয়েক বছরের মানব উন্নয়ন অর্জন মারাত্মক হারে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ইউএনডিপি সম্প্রতি ‘মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা: এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মানব উন্নয়নের প্রভাব’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

ইউএনডিপির প্রাথমিক মূল্যায়নে দেখা যায়, ইরানের সংকটের কারণে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান অস্থিরতা বাংলাদেশের মতো দক্ষিণ এশিয়ার ৩৬টির বেশি দেশে কষ্ট আরও বাড়িয়ে তুলবে। এতে করে নতুন করে দারিদ্র্য বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল, কারণ জ্বালানি তেলের দামের দ্রুত বৃদ্ধি, বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনের ব্যাঘাত এবং রেমিট্যান্স প্রবাহের ওপর এর প্রভাব পড়ছে। সংস্থার মতে, এ পরিস্থিতি কেবল অর্থনৈতিক নয়, এটি এশিয়ার মানুষের জীবনমান রক্ষার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

বাংলাদেশের উপর এর সরাসরি প্রভাবও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ইউএনডিপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় উপসাগরীয় দেশগুলোতে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের পণ্য পরিবহন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের প্রায় অর্ধেকেরও বেশি মধ্যপ্রাচ্যের হাবগুলো দিয়ে অন্যান্য দেশে যায়, যা এখন হুমকির মুখে পড়েছে।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহের উপর এর প্রভাব। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশে রেমিট্যান্সের প্রায় সাড়ে উদ্ধার থেকে ৫০ শতাংশ আসে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে। সেখানে শ্রমিকের কর্মসংস্থান ঘন ঘন কমে গেলে, রেমিট্যান্স কমে যাবে এবং অভিবাসী পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। শ্রমবাজারে নতুন অচলাবস্থা সৃষ্টি হলে এ অভিবাসী শ্রমিকরা চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে থাকবেন, যা দেশের মানব উন্নয়নের অগ্রগতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

প্রতিবেদন মতে, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশও বিভিন্ন ভুমিকা নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। জ্বালানি সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৈদ্যুতিক বাসের শুল্কমুক্ত আমদানির সুবিধা দিয়েছে। অন্যদিকে, জ্বালানি সংকট মোকাবিলার জন্য কাজের সময় কমানোর মতো নীতিগত সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। এগুলো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং মানুষের জীবনমান রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন