নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের এক নজিরবিহীন ঘটনায় এসএসসি পরীক্ষায় ১৭৭ জন শিক্ষার্থী ভুল করে ২০২৫ সালের সিলেবাসের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছেন। ঘটনাটি মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বাংলা প্রথম পত্র সৃজনশীল অংশে পরীক্ষা চলাকালীন এক ঘন্টা ২৫ মিনিট পর শিক্ষার্থীদের নজরে আসে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে কেন্দ্রের ভেতরে হই-হুল্লোড় সৃষ্টি হয় এবং পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ফেল করার ভয় ও উদ্বেগ দেখা দেয়। কিছু অভিভাবক সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আতঙ্ক প্রকাশ করে কেন্দ্র সচিব মো. আবদুল মতিন সরকারকে অবহেলার দায়ে দায়ী করেছেন।
প্রাথমিকভাবে বিষয়টি জানার পর কেন্দ্র সচিব দ্রুত সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে(extra) সময় বাড়ানোর আবেদন করেন। একই সঙ্গে কিছু অভিভাবক ও পরীক্ষার্থী কেন্দ্রের বাইরে বিক্ষোভ করে কেন্দ্র সচিবের পদত্যাগ দাবি করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে উপজেলা প্রশাসন এবং বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে অতিরিক্ত সময় দিয়ে নতুন (সঠিক) সিলেবাস অনুযায়ী পরীক্ষা নেওয়া হয়।
কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ বছর মোট ৭৬০ জন পরীক্ষার্থী ছিলেন, যারা সিনহা উচ্চ বিদ্যালয়, দবরউদ্দিন ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয়, মদনপুর রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও নাসিম মেমোরিয়াল ল্যাবরেটরি স্কুলের শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে ১৭৭ জনকে আলাদাভাবে ২০২৫ সালের সিলেবাসের প্রশ্ন দেওয়া হয় এবং তারা ওই ভুল প্রশ্নেই এক ঘন্টা ২৫ মিনিট লিখেন। পরে পুরাতন (সঠিক) সিলেবাসের প্রশ্ন দেওয়ার বিষয়টি শিক্ষার্থীরা টের পেয়ে বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানায়।
সিনহা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সায়মা আক্তার বলেন, ‘‘বহু নির্বাচনী পরীক্ষা শেষে আমরা সৃজনশীল অংশে বসেছি। প্রথমে বুঝিনি কি হয়েছে, পরে বুঝতেই ভয় ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে; কেউ কেউ কান্নায় ভেঙে পড়ে।’’ মদনপুর রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র আয়মান রহমান বলেন, ‘‘এভাবে ভুল হতে থাকলে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত অনিশ্চিত হবে। ভবিষ্যতে যাতে এমন না হয়, সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক হওয়া উচিত।’’
একজন অভিভাবক রাবেয়া বসরি অভিযোগ করেন, ‘‘কেন্দ্র সচিবের গাফলতের কারণে আমাদের সন্তানের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির সম্মুখীন হয়েছিল। এমন দায়িত্বহীন ব্যক্তিকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দায়িত্ববান কাউকে নিয়োগ দেওয়া উচিত।’’
কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্র সচিব মো. আবদুল মতিন সরকার অভিযোগের জবাবে বলেন, ‘‘প্রশ্নপত্রে সিলেবাসের সাল চোখে পড়েনি। এছাড়া অতিরিক্ত দুইটি প্রশ্নপত্রের প্যাকেট এসেছে, তাই বিষয়টি নজরে আসেনি। ভবিষ্যতে আরও সতর্ক হয়ে দায়িত্ব পালন করব।’’
সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসিফ আল জিনাত বলেন, ‘‘পুরোনো সিলেবাসে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছে এবং সঠিক সিলেবাসে পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। আমরা আশা করি পরীক্ষার্থীদের ওপর যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল তা এখন প্রশমিত হবে এবং তাদের ভবিষ্যত নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তার অপেক্ষা নেই।’’
ঘটনাটি কেন্দ্রীয় পরীক্ষার নিয়ন্ত্রণ ও প্রশ্নপত্র বিতরণের সময় আরও সতর্কতার দাবি জাগিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা প্রতিশ্রুতি দিলেও অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে যাতে এমন অনভিপ্রেত ভুল না ঘটে তার জন্য নিয়মনীতি শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।