আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপের টিকিট নিয়ে নতুন ঘোষণা দিয়েছে আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। ফিফা জানিয়েছে—আজ বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা থেকে টুর্নামেন্টের ১০৪টি ম্যাচের সবগুলো টিকিট পুনরায় বিক্রয়ের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। এবারে সাধারণ ক্যাটাগরি ১, ২ ও ৩ ছাড়াও ‘‘ফ্রন্ট ক্যাটাগরি’’ নামে একটি সম্পূর্ণ নতুন ও উচ্চমূল্যের বিভাগ যোগ করা হয়েছে।
ফিফার এই ঘোষণায় সমর্থকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই খুশি যে আরও টিকিটের সুযোগ তৈরি হয়েছে, কিন্তু একই সঙ্গে আসনবণ্টন ও টিকিটের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে কড়া অসন্তোষও প্রকাশ পাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে অভিযোগ করেছেন যে উন্নতমানের আসনগুলো আগে থেকেই আলাদা করে রাখা হয়েছে এবং সাধারণ সমর্থকদের তুলনায় সুবিধাজনক আসনগুলো পৌঁছে দেওয়া হয়নি।
টিকিটের দামও দ্রুত বাড়ছে—যেটা সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। গত ডিসেম্বরে যেখানে সর্বোচ্চ টিকিটের মূল্য ছিল 8,680 ডলার, সেখানে এপ্রিলের নতুন ধাপে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে 10,990 ডলারে। ফিফার প্রাথমিক বিক্রয়ধাপে ক্যাটাগরি-৩ টিকিটের নূন্যতম মূল্য শুরু হয়েছিল 140 ডলার থেকে, কিন্তু দ্বিতীয় দফায় সব ক্যাটাগরিতেই বড় ধরনের মূল্যস্ফীতি লক্ষ্য করা গেছে। নতুন ‘‘ফ্রন্ট ক্যাটাগরি’’ যোগ হওয়ায় অনেক সমর্থক তা এই টুর্নামেন্ট সাধারণ দর্শকের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে মনে করছেন। ফিফা এই অভিযোগগুলো সম্পর্কে এখনো সরাসরি কোনো বিস্তারিত মন্তব্য করেনি।
একই সময়ে কয়েকটি নির্দিষ্ট ম্যাচের টিকিট বিক্রি কম হওয়ার তথ্যও সামনে এসেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, ১২ জুন ক্যালিফোর্নিয়ার ইঙ্গলউডে অনুষ্ঠিতব্য উদ্বোধনী ম্যাচ—স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র বনাম প্যারাগুয়ের টিকিট প্রত্যাশা অনুযায়ী বিক্রি হচ্ছে না। সোফাই স্টেডিয়ামের প্রায় ৭০ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার বিপরীতে এখন পর্যন্ত মাত্র ৪০,৯৩৪টি টিকিট বিক্রি হয়েছে। তদুপরি ইরান বনাম নিউজিল্যান্ড ম্যাচের টিকিট বিক্রির হারও তুলনামূলকভাবে কম দেখা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও প্যারাগুয়ের ম্যাচের টিকিট বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে 1,120 থেকে 2,735 ডলার পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল। অন্যদিকে ইরান ও নিউজিল্যান্ড ম্যাচের জন্য দাম ধরা হয়েছিল 140 থেকে 450 ডলার পর্যন্ত।
ফিফা আশা করছে নতুন টিকিট ছাড়ার পর গ্যালারিগুলো পূর্ণ হবে এবং ম্যাচগুলোতে দর্শক আগমন বাড়বে, কিন্তু টিকিটের উচ্চমূল্য ও ক্যাটাগরি বিভাজন নিয়ে সৃষ্টি হওয়া বিতর্ক টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপনায় নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।