ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে চলতি মাসের তৃতীয় চালানে আরও ৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল বাংলাদেশে পৌঁছেছে। এই জ্বালানি পার্বতীপুর রেলহেডের অয়েল ডিপোতে ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন প্রকল্পের টার্মিনালে পৌঁছানোর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।
মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ম্যানেজার (অপারেশনস) কাজী রবিউল আলম বলেন, গত ২০ এপ্রিল নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে পাম্পিং শুরু হওয়ার প্রায় ৭০ ঘণ্টা পর এই চালান গন্তব্যে এসে পৌঁছায়। তিনি এ তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
এর আগের দুই চালান—চলতি মাসের ১১ ও ১৯ এপ্রিল—মিলে মোট ১৩ হাজার টন ডিজেল ঢোকে। তাই এই চার্জে অন্তর্ভুক্ত নতুন চালানসহ চলতি বছর এখন পর্যন্ত পাইপলাইনের মাধ্যমে মোট ৩৫ হাজার টন ডিজেল আমদানি হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এপ্রিল মাসে মোট চারটি চালানে ভারত থেকে ২৫ হাজার টন জ্বালানি আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা আছে।
উত্তরাঞ্চলের জেলায় বছরভর জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক ও নিরবচ্ছিন্ন রাখতে এই ভূ-গর্ভস্থ পাইপলাইনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ১৩১.৫৭ কিলোমিটার লম্বা এই প্রকল্প চালুর ফলে আগে রেল ওয়াগনে তেল পরিবহনের সময় ও জটিলতা অনেকাংশে কমেছে।
সরকারি চুক্তি অনুযায়ী গত ১৮ মার্চ ২০২৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে এই আমদানি কার্যক্রম শুরু হয়েছিল এবং আগামী ১৫ বছর পর্যন্ত এই সুবিধা বজায় থাকবে। বিপিসি (বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন) জানায়, এই পাইপলাইন ব্যবহার করে বছরে এক লাখ টন নয়, বরং দশ লাখ টন পর্যন্ত তেল আমদানি করা সম্ভব—যা কৃষি ও পরিবহন খাতসহ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়াতে সহায়ক।
বর্তমানে সংশ্লিষ্ট তেল কোম্পানিগুলো পার্বতীপুর ডিপো থেকে ডিজেল সংগ্রহ করে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে যাচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে নির্ধারিত চালানগুলো আসা-নেওয়ার সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ ও খুচরা বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।