বার্সেলোনা ক্লাব কর্তৃপক্ষ হ্যান্সি ফ্লিকের ওপর তাদের পূর্ণ আস্থা পুনরায় ব্যক্ত করেছে। ৬১ বছর বয়সী জার্মান কোচ দুই বছরের নতুন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন, যা অনুযায়ী তিনি ২০২৮ সাল পর্যন্ত ন্যু ক্যাম্পে থাকবেন। চুক্তিতে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে আরও একটি মরসুম বাড়ানোর অপশনও রাখা হয়েছে। ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে ক্লাবে যোগ দেওয়ার পর থেকে দলের উল্লেখযোগ্য উন্নতি ও খেলোয়াড়দের সঙ্গে সুসমন্বয়ের কারণে ম্যানেজমেন্ট এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নতুন চুক্তির ঘোষণা আসে রোববার, যখন এল ক্লাসিকোতে রিয়াল মাদ্রিদকে ২-০ গোলে হারিয়ে বার্সেলোনা টানা দ্বিতীয় লা লিগা শিরোপা নিশ্চিত করে। ঐ জয় কেবল মাঠের শ্রেষ্ঠত্বই নয়, কোচের কৌশল ও দলগত দিক নির্দেশনার বিষয়ে ক্লাবের সন্তোষও প্রমাণ করেছে।
আলাভেসের বিরুদ্ধে আসন্ন লিগ ম্যাচের আগে এক সংবাদ সম্মেলনে ফ্লিক এই চুক্তি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, ক্লাবের এই আস্থা তার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে এবং ভবিষ্যতেও কাজ চালিয়ে যেতে তিনি উত্সাহী।
চুক্তির মেয়াদ নিয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে ফ্লিক বলেন, তিনি একবারে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির চেয়ে ধাপে ধাপে এগোনোই বেশি পছন্দ করেন। অনেক কোচ চার বা পাঁচ বছরের বড় চুক্তি স্বাচ্ছন্দ্যে বেছে নেন, তবু বর্তমান প্রেক্ষাপটে তিনি দুই বছরকে আদর্শ মনে করেন—এতে ক্লাব ও কোচ উভয় পক্ষের জন্য নমনীয়তা ও জবাবদিহিতা বজায় থাকে। ২০২৮ সালের পরে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।
দুই মৌসুমে ফ্লিকের কাজের ফল উজ্জ্বল। তার অধীনে বার্সেলা দুইটি লা লিগা ট্রফি, একটি কোপা দেল রে এবং দুটি স্প্যানিশ সুপার কাপ জিতেছে। ঘরোয়া মঞ্চে তিনি দলকে অনুধাবনযোগ্যভাবে শক্তিশালী করেছেন, কিন্তু ইউরোপীয় শীর্ষস্থান — চ্যাম্পিয়ন্স লিগ — এখনো অর্জন করা হয়নি। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ২০২০ সালে ট্রেবল জিতেছেন ফ্লিক, কিন্তু বার্সেলোনার কোচ হিসেবে গত মরশুমে ইন্টার মিলানের কাছে সেমিফাইনালে এবং চলতি মরশুমে অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের কাছে কোয়ার্টার ফাইনালে থেকে বিদায় নিয়েছেন।
ফ্লিকের প্রধান লক্ষ্য এখন বার্সেলোনার ইউরোপীয় মর্যাদা পুনরুদ্ধার করা। ঘরোয়া আধিপত্য ধরে রাখার পাশাপাশি তিনি দলকে মানসিক ও কৌশলগতভাবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত করছেন। নতুন চুক্তি তাঁকে স্থিতিশীলতা দেবে, যা শিবির পুনর্গঠন ও তরুণ প্রতিভাদের মূল ধারায় নিয়ে আসায় সাহায্য করবে।
ভক্তদের আশাবাদ সেই সঙ্গে বজায় আছে; many hoffen যে ২০২৮ সালের মধ্যে ফ্লিকের নেতৃত্বে বার্সেলোনা আবার ইউরোপের শীর্ষে ফিরতে পারবে এবং ক্লাব তার পুরোনো সোনালী সময়ের ছোঁয়া ফিরে পাবে।