বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শোলাকিয়ায় ১৯৯তম ঈদুল আজহার প্রধান জামাত সকাল ৯টায় — দুটি ‘শোলাকিয়া এক্সপ্রেস’ বিশেষ ট্রেন চলবে

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে এবারের ঈদুল আজহার প্রধান জামাত সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হবে। দেশের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশের ১৯৯তম আসরে ইমামতি করবেন বিশিষ্ট আলেম মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। এ সিদ্ধান্তটি বুধবার দুপুরে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি সভায় চূড়ান্ত করা হয়।

শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিনের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় মুসল্লিদের যাতায়াত সহজ করতে ‘শোলাকিয়া এক্সপ্রেস’ নামক দুটি বিশেষ ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই বিশেষ ট্রেন সার্ভিস প্রতিবারের মতো এবারও জনসেবায় দেওয়া হবে, যাতে দূর-দূরান্ত থেকে আগত মুসল্লিরা দ্রুত ও নিরাপদে ঈদগাহে পৌঁছাতে পারেন।

সভায় ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব কামরুল হাসান মারুফসহ প্রশাসনের অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সার্বিক প্রস্তুতি, সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া হয় এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন সভায় শোলাকিয়ার ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, “শোলাকিয়ার ঈদুল আজহার জামাত দেশের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশ। প্রতি বছরই এখানে বিশাল সংখ্যক জনসমাগম হয়। তাই মুসল্লিদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে নামাজ আদায়ের জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, ওজু ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানি ও জরুরি চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে বিশেষ নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে বলে সভায় জানানো হয়। জামাত কেন্দ্রিক নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার জন্য দুই প্লাটুন বিজিবি ছাড়াও বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও র‍্যাব সদস্য পুরো এলাকা সার্বক্ষণিক তদারকি করবেন। তদারকি ও জননৈরাজ্য নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, প্রবেশপথ নির্ধারণ ও জরুরি উদ্ধারদল রাখার মতো উদ্যোগ নেয়া হবে। প্রশাসনের সকল বিভাগ ঐতিহ্য ও মর্যাদা বজায় রাখতে সম্মিলিতভাবে কাজ করবে।

প্রস্তুতি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মুসল্লিদের সেবায় প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা সময়মতো বাস্তবায়ন করা হবে। জেলা প্রশাসন ও ঈদগাহ পরিচালনা কমিটি জনসাধারণকে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণভাবে অংশ নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করেছে এবং যেসব মুসল্লির প্রতিকূলতা দেখা দিতে পারে তা মনিটর করার নির্দেশ দিয়েছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন