বাংলাদেশি রাজনীতিতে প্রতিহিংসা ও সংঘাত যেন এক পরিচিত রূপ—তবে ভোলার দৌলতখান ও বোরহানউদ্দিন (ভোলা-২) আসনে এক ভিন্ন হাওয়া বইছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সাংসদ আলহাজ মো. হাফিজ ইব্রাহিমের হাত ধরে স্থানীয় রাজনৈতিক বাতাবরণে একটি নতুন ‘সহনশীল ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি’ গড়ে উঠেছে বলে নেতাকর্মী ও শত্রুপক্ষ দু’পক্ষেরই অভিমত পাওয়া যাচ্ছে।
গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পালাবদলের পর দেশের নানা এলাকার মতো এখানে-ও অস্থিরতা প্রত্যাশিত ছিল; তবু দৌলতখান ও বোরহানউদ্দিনে চিত্রটা আলাদা। স্থানীয় বিএনপি নেতারা বলছেন, সেখানে আওয়ামী লীগের কোনো নেতা-কর্মী রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হননি। মামলা বা হামলার ভীতি ছাড়াই তারা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছেন। এই পরিবর্তনটি স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশে মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার আলম খাঁন জানান, হাফিজ ইব্রাহিম বারবার বলে আসছেন—“রাজনীতি হবে জনগণের কল্যাণে, প্রতিশোধের জন্য নয়।” তার এ অনুপ্রেরণায় তৃণমূল থেকে উৎসাহ এবং ইতিবাচক মনোভাব দেখা যাচ্ছে। নেতা-মেম্বাররা এখন ঝগড়া-ফাটল কমিয়ে সামাজিক মেরামতে মনোযোগ দিচ্ছেন।
পুরনো তিক্ততা ভুলে ব্যাপক উদারতার নজিরও মিলেছে। বিএনপি নেতাদের কথায়, পূর্ববর্তী সময়ে হাফিজ ইব্রাহিমের বাসভবনে একাধিক হামলা হয়েছিল এবং তিনি মাসভর অবরুদ্ধ ছিলেন। তবু ক্ষমতার পরিবর্তনের পর তিনি রাজনৈতিক প্রতিশোধের পথ গ্রহণ করেননি—বরং সাবেক আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে ভাঙচুর বা হামলা হতে দেননি। এই দৃষ্টান্ত স্থানীয় মানুষের কাছে সহাবস্থানের শক্তিশালী বার্তা হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে।
রাজনৈতিক দলমতকে উপেক্ষা করে সামাজিক বিচার ও সেবায় মনোনিবেশ করা হচ্ছে—এ কথাই উপজেলার যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী শহীদুল আলম নাসিমের বক্তব্য। তিনি বলেন, “দলমত নির্বিশেষে যারা সঠিক, তাদেরই ন্যায্য বিচার পাচ্ছেন।” আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও এখন বিভিন্ন বিরোধ-সমস্যা নিয়ে স্থানীয় বিএনপির কাছে এসে ন্যায় বিচার পান বলে জানান তারা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, ভোলায় গড়ে ওঠা এই ‘সহাবস্থানের রাজনীতি’ যদি দেশের অন্যান্য এলাকায় ছড়ায়, তাহলে এটা বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে আরও দৃঢ় করবে। প্রতিহিংসা বাদ দিয়ে ন্যায় ও শান্তির পথে হাঁটা—এটাই বর্তমানে ভোলার রাজনৈতিক মহলে এক প্রশংসিত মডেল হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের জীবনে শান্তি ও সহমর্মিতা ফিরিয়ে আনার দিক থেকে এই উদ্যোগকে গুরুত্ব দিতে বলা হচ্ছে।