কুমিল্লাকে বিভাগে রূপান্তর এবং সেখানে একটি উচ্চতর কৃষি গবেষণা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের দীর্ঘদিনের গণদাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান। শনিবার দুপুরে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে আয়োজিত জনসমাবেশে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন।
সভায় তার বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘যদি কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষণা করা জনগণের দাবি হয়, সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।’ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের চাওয়া অনুযায়ী একটি উচ্চমানের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণাকেন্দ্র গড়া হবে—এমন জোরালো প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
তিনি বলেন, এ সফরের উদ্দেশ্য ছিল বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জনগণের সামনে তুলে ধরা। দলীয় অঙ্গীকার ও দায়িত্বশীলতা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি দাবি করেন, বিএনপি যে প্রতিশ্রুতি দেয়, সরকারে এলে তা বাস্তবায়ন করে।
তারেক রহমান আরও জানান, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এখন পর্যন্ত সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ের ইমাম ও পুরোহিতদের জন্য রাষ্ট্রীয় সম্মানী চালু করা হয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করেন, সাধারণ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা ও জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে আগামী জুনের জাতীয় বাজেটে ফ্যামিলি কার্ড খাতে বিশেষ বরাদ্দ রাখা হবে।
আগের স্বৈরাচারি শাসনের দিনগুলো স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, তেবিল সময়ে সাধারণ মানুষের কথা বলার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল এবং গুম-খুনের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক আন্দোলনের মাধ্যমে দেশ সেই অন্ধকার থেকে মুক্তি পেয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তবে শুধুমাত্র স্বৈরাচারমুক্তি তাকে চূড়ান্ত অর্জন হিসেবে দেখেন না—তারেক রহমান বলেন, প্রকৃত লক্ষ্য হল একটি নতুন ও সবার অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্র গড়ে তোলা। তিনি মনে করান, when মানুষ স্বাবলম্বী হবে, তখনই দেশ এগোবে; তাই রাষ্ট্র পুনর্গঠনে সবাইকে ধৈর্য্য ধরে পাশে থাকার আহ্বান জানান।
নেতার এই ভাষণে বারবার জোর দেওয়া হয় যে, স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধান অগ্রাধিকার হবে প্রতিটি মানুষের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা। সভায় উপস্থিত মানুষের প্রতিক্রিয়া ও উদ্দীপনা উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনে এ দাবিগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ ত্বরান্বিত হবে।