সোমবার, ১৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চেলসিকে হারিয়ে ওয়েম্বলিতে এফএ কাপে চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার সিটি

ঐতিহাসিক ওয়েম্বলিতে চেলসিকে ১-০ গোলে হারিয়ে এফএ কাপ জিতেছে ম্যানচেস্টার সিটি। শনিবারের উত্তেজনাপূর্ণ ফাইনালে কষ্টার্জিত এই জয়ের ফলে পেপ গার্দিওলার দল ঘরোয়া ফুটবলে ট্রেবল বা তিনটি শিরোপা জেতার আশা ধরে রাখতে সফল হয়েছে। গত দুই মৌসুমে ফাইনালে হারার শহীন অভিজ্ঞতার পর এবার আবারও এফএ কাপ নিজেদের করে ক্লাব ইতিহাসে আটবার এই ট্রফি জয় করলো সিটি।

ম্যাচের শুরু থেকেই চেলসি তাদের ডিফেন্স সাজিয়ে কঠিন রক্ষণভাগ গড়ে রাখে এবং সিটির আক্রমণভাগকে চাপে রেখে খেলতে চায়। প্রথমার্ধের ২৭ মিনিটে আর্লিং হালান্ড চেলসির জালে বল পাঠালেও অফসাইডের কারণে সে গোল বাতিল হয়। বিরতির ঠিক আগমুহূর্তে হালান্ডের আরেকটি শক্তিশালী শটে চেলসির গোলরক্ষক রবার্ট সানচেজ দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে সেই প্রচেষ্টা বাঁচিয়ে দেন।

জয়ের একমাত্র গোল আসে ম্যাচের ৭২ মিনিটে। বার্নার্দো সিলভার সুদক্ষ পাস থেকে বল পেয়ে নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড চেলসি ডিফেন্ডার লেভি কলউইলের বাধা ফেলে দুর্দান্ত এক শটে বল জালে জড়ান এবং সিটির জন্য লিড নিশ্চিত করেন। এই গোলের পর থেকেই চেলসি অফেনসিভভাবে দলকে সামনে আনতে শুরু করে, কিন্তু ম্যানসিটি সেরকমভাবে প্রতিরক্ষা দৃঢ় রেখে নিজেদের গোলবক্স রক্ষা করে।

ম্যাচের শেষ মুহূর্তে চেলসির সমতা ফেরানোর সার্বিক চেস্টা ছিল চোখে পড়ার মতো। মাঠের মধ্যে থেকে এনজো ফার্নান্দেসের এক শট ক্রসবারে লেগে ফিরে গেলে ব্লুদের সবচেয়ে ভালো সুযোগটি হাতছাড়া হয়। সেখান থেকেই আর কোনো লক্ষ্যবস্তু খুঁজে না পেয়ে ম্যানচেস্টার সিটি রক্ষণভাগ অক্ষত রেখে ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়ে।

এই শিরোপা জয় পেপ গার্দিওলার জন্য একটি বড় মাইলফলকও বয়ে এনেছে — ক্লাবের কোচ হিসেবে এটি তাঁর ২০তম শিরোপা এবং এফএ কাপের মঞ্চে তৃতীয়বারের মতো সাফল্য। গত মার্চে লিগ কাপ জয় করায় এখন সিটির সামনে প্রিমিয়ার লিগ জয়ের সম্ভাব্যতা আরও উজ্জ্বল হয়েছে। টেবিলে আর্সেনালের বিপরীতে সিটি মাত্র দুই পয়েন্ট পিছিয়ে আছে এবং তাদের এখনও দুটি ম্যাচ বাকি। মঙ্গলবার বোর্নমাউথের বিরুদ্ধে জয় পেলে শিরোপা প্রতিযোগিতায় আর্সেনালের ওপর চাপ আরও বাড়াতে পারবে তারা।

গার্দিওলার সম্ভাব্য বিদায়ী মৌসুমে অন্তত দুটি ঘরোয়া শিরোপা নিশ্চিত হওয়ায় ভক্তদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে; প্রিমিয়ার লিগও জিতলে সেটি ক্লাবের জন্য এক অনন্য অর্জন হবে। এফএ কাপ জয়ের পর সিটিজেনদের মনোযোগ এখন সম্পূর্ণভাবে লিগে, যেখানে সবকিছু এখনও খোলা। মাঠে কৌশলগত আধিপত্য এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্স আবারও দেখিয়ে দিয়েছে কেন ম্যানচেস্টার সিটি বিশ্ব ফুটবলে শীর্ষ ক্লাবগুলোর মধ্যে গণ্য করা হয়। ভক্তরা এখন উত্তেজনাভরে অপেক্ষা করছেন লিগের শেষ সিদ্ধান্ত দেখার জন্য।

পোস্টটি শেয়ার করুন