শনিবার, ২৩শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বজুড়ে দাপট দেখাল মোহনলালের ‘দৃশ্যম ৩’

২০১৩ সালের সেই চমকপ্রদ মালয়ালম থ্রিলার ‘দৃশ্যম’ থেকে শুরু হওয়া জর্জকুট্টির অদম্য অভিযাত্রা এখন আরও এক ধাপে পৌঁছেছে। পরিচালক জিতু জোসেফের পরিচালনায় নির্মিত সিরিজের তৃতীয় কিস্তি ‘দৃশ্যম ৩’ গত বৃহস্পতিবার—অভিনেতা মোহনলালের ৬৬তম জন্মদিনে—প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বক্স অফিসে ঝড় তুলেছে। প্রথম দিনেই বিশ্বজুড়ে সিনেমাটি ব্যবসা করে প্রায় ৪৩ কোটি ৩৭ লাখ রুপিঃ যা মালয়ালম চলচ্চিত্রের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ওপেনিং রেকর্ডের কীর্তি গড়ল। উল্লেখযোগ্যভাবে তালিকার শীর্ষস্থানও মোহনলালেরই ‘এল২: এমপুরান’ সিনেমার দখলে থাকায় বর্তমানে মালয়ালমের দুটি বড় মাইলফলকই এই কিংব 뜻জিৎ অভিনেতার হাতে রয়েছে।

দৃশ্যম ফ্র্যাঞ্চাইজির এমন আকাশছোঁয়া সাফল্য একেবারেই অপ্রত্যাশিত নয়—এটি দীর্ঘ এক দশকের জনপ্রিয়তার ফল। ২০১৩ সালের প্রথম কিস্তি শুধু ভারতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; চীন ও শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশে স্থানীয় ভাষায় রিমেক করে এটি নজির স্থাপন করেছিল। এরপর করোনা মহামারীর সময়ে দ্বিতীয় কিস্তি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে এসে সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ায়। সেই ধারাবাহিকতায় বড় পর্দায় প্রিয় জর্জকুট্টি পরিবারকে ফিরে দেখায় দর্শকদের আকর্ষণ আবারও তীব্র হয়ে উঠেছে। মীনা রানি জর্জের ভূমিকায়, আর আনসিবা হাসান ও এস্থার অনিল যথাক্রমে অন্জু ও অনু চরিত্রে সাবলীল উপস্থিতি থেকে দর্শকরা খুশি হয়েছে।

জন্মদিনের ব্যতিক্রমী প্রেজেন্ট হিসেবে মুক্তির দিনটি কেরলের বহু প্রেক্ষাগৃহে উৎসবমুখরভাবে উদযাপিত হয়েছে। মধ্যরাত থেকেই বিশেষ শো, কেক কাটা ও আতশবাজির মধ্য দিয়ে ভক্তরা মোহনলালকে বরণ করে নেয়। স্যাকনিল্কের তথ্যমতে প্রথম দিনের সংগ্রহ থেকে ভারতের বাজার থেকে সংগ্রহ হয়েছে প্রায় ১৮ কোটি ৩৭ লাখ রুপি এবং বিদেশ থেকে প্রায় ২৫ কোটি রুপি—মোট মিলে বিশ্বের ব্যপী ~৪৩ কোটি ৩৭ লাখ। বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশে মালয়ালম সিনেমার ক্রমবর্ধমান চাহিদাই এই ব্যবসায় বড় ভূমিকা রেখেছে।

দর্শক ও সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া মিশ্র রয়ে গেছে। অনেকে মনে করছেন আগের দুই কিস্তির রুদ্ধশ্বাস রহস্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই কিস্তিতে সেই ক্লাইম্যাক্স কিছুটা কমে গিয়েছে; তবু মোহনলালের গভীর ও নিয়ন্ত্রিত অভিনয় চলচ্চিত্রটিকে জীবন্ত রেখেছে। জর্জকুট্টির নীরব কৌশল, পরিবারের প্রতি অনুগত ভালোবাসা এবং সাধারণ মানুষের বুদ্ধিমত্তা—এই উপাদানগুলো ফের দর্শকের সঙ্গে একই সুরে যোগাযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে।

একজন সাধারণ মানুষকে প্রতিনিধিত্ব করে প্রতিকূলতা জয়ের গল্প হিসেবে জর্জকুট্টি চরিত্রটি ইতোমধ্যে ভারতীয় জনপ্রিয় সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। এখন প্রশ্নটা রয়ে গেল—এই সফলতা আগামী দিনগুলোতে কতদূর স্থায়ী হতে পারে। চলমান ব্যবসা, দর্শক প্রতিক্রিয়া এবং পরবর্তী সৃজনশীল সিদ্ধান্তগুলোই নির্ধারণ করবে ‘দৃশ্যম’ ফ্র্যাঞ্চাইজির ভবিষ্যত ল্যান্ডস্কেপ।

পোস্টটি শেয়ার করুন