রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসন এবং কৃষি উৎপাদন বাড়াতে দুটি খালের পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। শুক্রবার (২২ মে) সকালে লক্ষীটারী ইউনিয়নের চর ইশরকুল খাল এবং বড়বিল ইউনিয়নের পুকুরখুড়ি খাল পুনঃখননের কাজের উদ্বোধন করেন রংপুর জেলা প্রশাসক। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা, গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও), মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত), লক্ষীটারী ও বড়বিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা, উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ, সাবেক ও বর্তমান স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও অন্য গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
প্রকল্পের বরাত অনুযায়ী লক্ষীটারী ইউনিয়নের জয়রামওঝা মৌজার ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে চর ইশরকুল খালের মোট ২,৫০০ মিটার অংশ পুনঃখনন করা হবে। এ প্রকল্পে মোট ১৪৯ জন উপকারভোগী অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। কাজের জন্য শ্রমিকদের মজুরি হিসেবে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩১,৯৭,১৭৫ টাকা, ননওয়েজ খরচ (উপকরণ ও অন্যান্য খরচ) হিসেবে ৩২,৩৯,৯৪৪ টাকা এবং সর্দার মজুরি হিসেবে ৪,৩০০ টাকা।
অন্যদিকে বড়বিল ইউনিয়নের দক্ষিণ পানাপুকুর মৌজার ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডে পুকুরখুড়ি খালের ২,১৬০ মিটার অংশ পুনঃখনন করা হবে। এই প্রজেক্টে ১২৮ জন উপকারভোগী আছেন। সেখানে শ্রমিক মজুরি হিসেবে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২৭,৬২,৩৫৯ টাকা, ননওয়েজ খরচ হিসেবে ২৭,৯৯,৩১২ টাকা এবং সর্দার মজুরি হিসেবে ৪,৩০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, ‘‘প্রকল্পের প্রতিটি কাজ উপজেলা প্রশাসনের তদারকিতে চলবে এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় দ্রুত কার্যকর করা হবে।’’ রংপুর জেলা প্রশাসক বলেন, ‘‘খালগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও গুণগত মান নিশ্চিত করা হবে।’’
প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী বলেন, ‘‘খাল পুনঃখননের ফলে পানি নিষ্কাশন সহজ হবে এবং সেচ ব্যবস্থার উন্নতির ফলে কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বাড়বে; এতে কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হবেন।’’
স্থানীয় কৃষকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে খাল ভরাট থাকায় বর্ষায় পানির নিষ্কাশনে সমস্যা হত। পুনঃখননের ফলে খালগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরে এলে শুধু ফসলের উৎপাদনই বাড়বে না, মৎস্যচাষ-সহ স্থানীয় জীবিকা ক্ষেত্রেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। প্রশাসন জানিয়েছে কাজ অব্যাহত থাকবে এবং প্রকল্পের গুণগত মান ও সময়োপযোগী সম্পন্ন করতে তদারকি জোরদার করা হবে।