কোস্ট গার্ড সুন্দরবনের দু’টি পৃথক অভিযানে দুর্ধর্ষ ডাকাতদের কাছ থেকে মোট ২১ জন জেলে উদ্ধার করেছে। অভিযানে ডাকাতদের কাছ থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদও জব্দ করা হয়।
কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় বনদস্যুদের বিরুদ্ধে কোস্ট গার্ড কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান চলছে।
প্রথম অভিযানে খুলনার কয়রা ও সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কয়েকজন জেলে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে সুন্দরবনের গভীরে গেলে দুর্ধর্ষ ডাকাত দল দয়াল বাহিনী তাদের ফাঁদে ফেলেছিল। অভিযোগ অনুযায়ী ডাকাতরা ফিরিঙ্গি খাল ও কুনচিরখাল সংলগ্ন এলাকা থেকে জেলেদের জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবি করে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কয়রা এলাকা বিশেষভাবে চিহ্নিত হলে গত বৃহস্পতিবার ভোর চারটায় কোস্ট গার্ড স্টেশন কয়রা ওই এলাকায় একটি অভিযান চালায়। অভিযানের সময় ডাকাতরা কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টেরে বনের ভেতরে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি, কিন্তু পরে তল্লাশি চালিয়ে দয়াল বাহিনীর কাছ থেকে ১০ জন জেলে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
অন্য অভিযানে কোস্ট গার্ড ও র্যাবের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় সুন্দরবনের কুখ্যাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী দাকোপ থানার শিবসা নদীর বড় দুদমুখ খাল সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। একইদিন বিকেল পাঁচটায় কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালে ডাকাতরা আভিযানিক দলকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে এবং কোস্ট গার্ড আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। এরপর তল্লাশি চালিয়ে একটি একনলা বন্দুক, ৫ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও ১ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ জব্দ করা হয় এবং বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর কাছ থেকে ১১ জন জেলে উদ্ধার করা হয়।
কোস্ট গার্ড জানায়, জব্দকৃত অস্ত্র ও গোলাবারু সম্পর্কে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। উদ্ধারকৃত জেলেদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ও সহযোগিতা দেয়ার কাজও চলছে।