সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদি আরবে রপ্তানি ১০০ কোটি ডলারে উন্নীত করার বাস্তব সুযোগ, খাতভিত্তিক পরিকল্পনায় জোর

সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় কয়েকগুণ বাড়িয়ে ২০২৭ সালের মধ্যে ১০০ কোটি মার্কিন ডলারে (১ বিলিয়ন ডলার) উন্নীত করার বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। রোববার (২৪ মে) সৌদি আরব-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রতিনিধিদল বাণিজ্যমন্ত্রীর সাক্ষাৎকালে এ আশাবাদ ব্যক্ত করে।

প্রথাগত তৈরি পোশাক খাত ছাড়াও বর্তমানে সৌদি আরবে বাংলাদেশের ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য, পাটপণ্য ও বিশেষায়িত খাবারের ব্যাপক চাহিদা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই বিশাল সুযোগ কাজে লাগাতে পুরনো রপ্তানি কৌশলের বাইরে গিয়ে খাতভিত্তিক ও আধুনিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি বলে প্রতিনিধিদলটি গুরুত্ব দেন।

চেম্বারের সভাপতি আশরাফুল হক চৌধুরী বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ তুলে ধরে বলেছেন, “সৌদি বাজারে বাংলাদেশের পণ্য ও সেবার বড় পর্যায়ের চাহিদা রয়েছে। সরকারি সহায়তা ও সমন্বিত উদ্যোগ থাকলে ২০২৭ সালের মধ্যে রপ্তানি ১০০ কোটি ডলারে উন্নীত করা সম্ভব।”

প্রতিনিধিদল আরও উল্লেখ করেছে, সৌদি ভিশন ২০৩০, ওয়ার্ল্ড এক্সপো এবং বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক আয়োজনগুলোর প্রভাব থেকে শিক্ষা, গ্রিন টেকনোলজি, মরুভূমি বনায়ন, আধুনিক কৃষি ও ক্ষুদ্রঋণ ভিত্তিক অর্থায়নের মতো নতুন ও সৃজনশীল খাতে বাংলাদেশের জন্য বড় বাজার সৃষ্টি হয়েছে।

সরকারও বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করা এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব ধরণের সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছে। বাণিজ্য, শিল্প ও বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, ‘‘বিদেশে ব্যবসা ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দেশের পরিচিতি বাড়ে; এজন্য রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধিকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।’’

মন্ত্রী সাংবাদিক ও প্রতিনিধিদলকে আরও বলেন, উদ্যোক্তাদের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিতে হবে—কোন খাতে কী ধরনের নীতিগত, আর্থিক বা খাতভিত্তিক সহায়তা দরকার তা স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। বাস্তবসম্মত প্রস্তাব পেলে সরকার তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও খাতভিত্তিক সহযোগিতা জোরদার করার উপায় আলোচনা করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, দক্ষ মানবসম্পদকে কার্যকরি সম্পদে পরিণত করতে পারলেই মধ্যপ্রাচ্যের এই বড় বাজার দখল করা সম্ভব হবে।

প্রতিনিধিদল ও মন্ত্রণালয় উভয় পক্ষই দ্রুত খাতভিত্তিক রোডম্যাপ তৈরি করে তা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে আগামী কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা যায়।

পোস্টটি শেয়ার করুন