মঙ্গলবার, ২৬শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইনজুরি সত্ত্বেও ইয়ামালকে রেখেই চমক স্পেন — মোরাতা শেষ স্কোয়াডে নেই

আসন্ন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের জন্য ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। ঘোষিত তালিকাটি নিয়ে সবচেয়ে বড় আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে দলের নিয়মিত অধিনায়ক আলভারো মোরাতার অনুপস্থিতি। ইউরো জয়ী দলের নেতৃত্বে ভূমিকায় থাকা সত্ত্বেও মোরাতাকে বিশ্বকাপের স্কোয়াডে না রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—কোচ সম্ভবত আক্রমণে তরুণপ্রজন্মকে বেশি ভরসা দেওয়াই এই কঠিন পদক্ষেপের পেছনে মূল কারণ করে দেখেছেন।

স্কোয়াড ঘোষণার পর অতিরিক্ত চমক হিসেবে উঠে এসেছে লামিনে ইয়ামালের নাম। বর্তমানে ইনজুরির কারণে তিনি পুরোপুরি ফিট নন—তাই সম্ভবত কেপ ভার্দের সঙ্গে দল উদ্বোধনী ম্যাচে খেলবেন না—তবুও টিম ম্যানেজমেন্ট তাঁকে তালিকায় রেখেছে যাতে টুর্নামেন্টের পরবর্তী ম্যাচগুলোর জন্য তিনি প্রস্তুত থাকতে পারেন। কোচিং শিবিরের এই ঝুঁকি মূলত খেলোয়াড়ের প্রতিভা ও ভবিষ্যতের পরিকল্পনা বিবেচনায় নেওয়া বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে একে ছাড়াও স্পেনের শিবিরে কিছু উদ্বেগও রয়েছে। বার্সেলোনার তরুণ তারকা ফের্মিন লোপেজ পায়ের হাড় ভাঙার কারণে ও পরবর্তী অস্ত্রোপচারের দরুণ বিশ্বকাপ থেকে বাইরে থেকে যাচ্ছেন, যা আক্রমণ এবং সাকসেসনের দিক থেকে স্পেনের পক্ষে অস্বস্তিকারক সংবাদ।

মাঝমাঠে স্পেনকে দেখা হচ্ছে শক্তিশালী ও ভারসাম্যপূর্ণ হিসেবে। অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার রদ্রি (রদ্রিগো হার্নান্দেজ) নেতৃত্ব দেবেন, এবং তাঁর সঙ্গে তরুণ ও সৃজনশীল গাভি ও পেদ্রি যুক্ত রয়েছেন। রদ্রির অভিজ্ঞতা ও গাভি-পেদ্রির ক্রীড়াগত কৌশল দলকে মাঝমাঠে একটি দুর্বল হওয়া কঠিন এক ইউনিট বানাবে—বিশ্লেষকরা এভাবেই বিশ্লেষণ করছেন।

রক্ষণভাগে স্প্যানিশ দলকে দাঁড় করানো হয়েছে নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় দিয়ে—আইমেরিক লাপোর্তে এবং পাউ কুবার্সিসহ বহু অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার রয়েছেন। গোলরক্ষকের দায়িত্বে আছেন উনাই সিমন, ডেভিড রায়া এবং জোয়ান গার্সিয়া।

আক্রমণে মোরাতার অনুপস্থিতি স্পষ্টতই ফুটবলের গোলের বোঝা বাড়িয়ে দিয়েছে। এই ভূমিকায় এখন নিকো উইলিয়ামস, দানি অলমো এবং ফের্রান তোরেসদের ওপর অনেকটাই দায়িত্ব এসে যাচ্ছে। পাশাপাশি ইয়েরেমি পিনো ও বোর্হা ইগলেসিয়াসের মতো নাম রয়েছে যারা দলের আক্রমণকে বৈচিত্র্য দিতে পারবে। দে লা ফুয়েন্তে মূলত তরুণতা, গতি ও আক্রমণাত্মক ফুটবলের সমন্বয় ঘেঁষে দল সাজানোর পরিকল্পনা করেছেন—এতে প্রতিপক্ষের রক্ষণকে চাপ দেওয়েতে সুবিধা থাকার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

স্পেনের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে ১৪ জুন, কেপ ভার্দের বিপক্ষে। গ্রুপ ‘এইচ’-এ তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ সৌদি আরব ও উরুগুয়ে। উদ্বোধনী ম্যাচে ভালো ফলের লক্ষ্যে থাকলেও গ্রুপের অন্যান্য ম্যাচগুলো, বিশেষ করে উরুগুয়ের সঙ্গে লড়াই খুবই চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠতে পারে। ইউরো জয়ের আত্মবিশ্বাস ধরে রেখে এই তরুণভিত্তিক দল বিশ্বমঞ্চে কতদূর যেতে পারে—এটাই এখন ফুটবল বিশ্বের বড় প্রশ্ন ও কৌতূহল।

পোস্টটি শেয়ার করুন