মঙ্গলবার, ২৬শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চীন-পাকিস্তান স্বাক্ষর ১২২ কোটি ডলারের বিনিয়োগ চুক্তি

পাকিস্তান ও চীনের সম্পর্ক আরও গভীর করতে ১২২ কোটি ডলারের একটি বিস্তৃত বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে। চীন রাজধানী বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরের সময় এই ঐতিহাসিক চুক্তি ও একাধিক সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর করা হয়। চুক্তিটি প্রধানত নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বৈদ্যুতিক যানবাহন, ওষুধ শিল্প এবং স্মার্ট প্রযুক্তির মতো আধুনিক ও সম্ভাবনাময় খাতে বিনিয়োগকে কেন্দ্র করে গঠিত। দেশের উত্থানপতনে এ ধরনের শিল্পায়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে দৃঢ় প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের উপস্থিতিতে দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। ১২২ কোটি ডলারের এই প্যাকেজ কেবল একটি বড় আর্থিক প্যাকেজই নয়; এতে বাণিজ্য, কৃষি, জলবায়ু পরিবর্তন, শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতেও বিস্তৃত সহযোগিতার পথ খুলে গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকগুলো আগামী দিনে পাকিস্তানের বিভিন্ন শিল্পে কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে সহায়তা করবে এবং কর্মসংস্থানও বাড়াবে।

চুক্তির আওতায় চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি)-কে ছাড়িয়ে নতুন নতুন খাতে যৌথ উদ্যোগের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাকিস্তান সরকার মনে করছে, এ বিনিয়োগ দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে ও দ্রুত পুনরুদ্ধার করতে সহায়ক হবে। প্রযুক্তিদিক থেকে সহযোগিতা পুঁজি ও দক্ষতা দুটোই আনায় সুবিধা দেবে, যা উৎপাদনশীলতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ চীন রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। বৈঠকে শি জিনপিং জোর দিয়ে বলেন, বৈশ্বিক রাজনৈতিক অস্থিরতা যাই হোক না কেন, চীন পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ককে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে এবং পাকিস্তানকে ‘‘চীনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও নির্ভরযোগ্য বন্ধু’’ হিসেবে অভিহিত করেন। জবাবে শেহবাজ শরীফ দুই দেশের বন্ধুত্বকে ‘‘আয়রন ব্রাদার’’ বা অটুট ভ্রাতৃত্ব হিসেবে উল্লেখ করে এ সম্পর্কের তুলনা অনন্য বলে স্তব্ধ করেন।

বৈঠকের আলোচ্য বিষয় ছিল কেবল অর্থনীতি নয়; আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিও আলোচনা তালিকার উপরের দিকে ছিল। তাতে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের উপস্থিতি বৈঠকের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সৌজন্যে, বৈঠকে পাকিস্তানের ইরান সংকট নিরসনে নেয়া শান্তি উদ্যোগের প্রশংসা করেন শি জিনপিং। দুই দেশই মনে করে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তাদের পারস্পরিক সহযোগিতা ও কৌশলগত ঐক্য অত্যন্ত জরুরি।

সামগ্রিকভাবে বলা যায়, ১২২ কোটি ডলারের বিনিয়োগ চুক্তি ও সঙ্গে স্বাক্ষরিত বিভিন্ন সমঝোতা স্মারক চীন-পাকিস্তান সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। বিশেষত প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পায়নের মাধ্যমে পাকিস্তানের উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর লক্ষ্যে চীনের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর ও করা চুক্তিসমূহ কেবল অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিই নয়, দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত ও রাজনৈতিক অবস্থানকেও প্রভাবিত করবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন