মঙ্গলবার, ২৬শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতীয় দলে থমাস ডুলির নতুন অধ্যায় শুরু

বন্ধুদের সঙ্গে প্রথম কনট্যাক্ট থেকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি—এভাবেই শুরু হল বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের নতুন কোচ থমাস ডুলির কাজ। সোমবার বিকেলে কিংস অ্যারেনায় কোচ হিসেবে প্রথমবারের মতো শিষ্যদের সঙ্গে সময় কাটান এই আমেরিকান।

বসুন্ধরা কিংসের দশজন খেলোয়াড় ক্লাবের ব্যস্ততার কারণে এখনও ক্যাম্পে যোগ দিতে না পারায় ডুলি প্রথম দিন ১৬ জন ফুটবলারের ওপরই তার প্রথম অনুশীলন সেশন পরিচালনা করেন। মাঠে নামার আগে তিনি দলের সামনে নিজের প্রাথমিক পরিকল্পনা ও কোচিং দর্শন স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন।

ডুলি অনুশীলনের শুরুতেই স্পষ্ট ও স্বচ্ছ যোগাযোগের ওপর জোর দেন। নিজের কোচিং ক্যারিয়ারের একটি দৃশ্য তুলে ধরে তিনি জানান, ফিলিপাইনে একটি ঘটনার পর থেকে তিনি বুঝেছেন খেলোয়াড়দের কথা মনে ধরেই নেওয়া ঠিক নয়—কেউ বললো বুঝেছি, কিন্তু ময়দানে তা দেখা যায়নি, ফলে পুরো খেলার ওপর প্রভাব পড়ে। তাই কোনো কৌশল বা নির্দেশনা না বুঝলে সরাসরি প্রশ্ন করার গুরুত্ব তিনি ফুটবলারদের বোঝান।

প্রactice-এ কৌশলগত কাজের পাশাপাশি মনোযোগ ও ক্রীড়াবিদদের দক্ষতা বৃদ্ধিতেও ডুলি নজর দিয়েছেন। সাধারণ পাসিং ড্রিল বা স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘চোর-চোর’ ধরনের অনুশীলন বদলে তিনি ৫ বনাম ২ পজিশনাল গেমের মতো বাস্তবমুখী ব্যায়ামের দিকে মনোযোগ দেন, যাতে দাবি ও অবস্থান উভয়ই উন্নত হয়।

ডুলির পর্যবেক্ষণ—খেলোয়াড়দের স্ট্যামিনা ও দৌড়ানোর ক্ষমতা আন্তর্জাতিক মানের হলেও ম্যাচে কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ার পেছনে প্রধানত মনস্তাত্ত্বিক দুর্বলতা এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ছোটখাটো ভুলগুলোই দায়ী। এই দুর্বলতাগুলো কাটাতে তিনি মানসিক দৃঢ়তা ও খেলার সময় সিদ্ধান্ত গ্রহণের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে চান।

প্রথম দিনটি মূলত পরিচিতি ও বেসিক নির্দেশনার মধ্যে কেটে গেল। দলের দ্বিতীয় সেশন আগামীকাল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও বসুন্ধরা কিংসের অনুপস্থিত দশজন খেলোয়াড় সময়মতো যোগ দিতে পারবেন কি না তা টিম ম্যানেজমেন্ট এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি।

টিম পূর্ণাঙ্গ হওয়ার পরই ডুলি দীর্ঘমেয়াদি কৌশল ও বিস্তারিত গেমপ্ল্যান বাস্তবায়নের কাজ শুরু করবেন বলে দলের আশাবাদী সূত্র জানিয়েছে। নতুন কোচের আগমনে জাতীয় দলে সতেজতা এসেছে, এবং এখন দেখার বিষয়—এই নতুন পথচলায় দ্রুত সুর মিলাতে পারে কি না।

পোস্টটি শেয়ার করুন