বুধবার, ২৭শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদির সঙ্গে মিল রেখে বগুড়ার তিন উপজেলার কিছু এলাকায় আগাম ঈদুল আজহা

বগুড়ার গাবতলী, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলার কিছু এলাকায় সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে এক দিন আগেই বুধবার পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করা হয়েছে। জেলার গাবতলী রেলস্টেশন সংলগ্ন রেলওয়ে জামে মসজিদে সকাল সাড়ে সাতটায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

বৃষ্টি হওয়ায় নামাজ নির্ধারিত সময়ের কিছুটা পরে শুরু হয় এবং মসজিদের ভেতরেই নামাজ সম্পন্ন করা হয়। তবু মুসল্লিদের মধ্যে উৎসাহের কমতি ছিল না। গাবতলীতে এটি চতুর্থবারের মতো আগাম ঈদ উদযাপন।

প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এবারের উপস্থিতি আগের বছরের তুলনায় খানিক কম ছিল। তবু নারী ও শিশুসহ অর্ধশতাধিক ভক্তি প্রিয় মানুষ এতে অংশ নেন। কাহালু ও ধুনট থেকেও অনেক ধর্মপ্রাণ লোক ব্যক্তি বিশেষ জামাতে যোগ দিতে গাবতলীতে যান। নামাজ শেষে তারা একে অপরকে কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। নিরাপত্তার স্বার্থে গাবতলী মডেল থানা এলাকায় বিশেষ প্রহরী দায়িত্বে ছিল।

স্থানীয় ইমাম ও নামাজের নামায পড়ানো মিজানুর রহমান, যিনি পেশায় দর্জি এবং দ্বীনি শিক্ষায় অনুশীলন করেন, এই আগাম ঈদের ধর্মীয় ও বৈজ্ঞানিক যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ২০১২ সাল থেকে তারা রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ ও বিশ্বের একক চাঁদ দেখার নীতির ওপর ভিত্তি করে এ নিয়ম মেনে চলছেন। আধুনিক যোগাযোগের যুগে সৌদি আরবে চাঁদের দেখা নিয়ে দ্রুত খবর পাওয়া গেলেও তারিখের ভিন্নতা কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতে—যেমন শবে কদর বা আরাফাতের সিয়ামে—বিভ্রান্তি তৈরি করে। তাই সৌদি আরবে আরাফাতের দিন অতিবাহিত হওয়ার পরদিনই তারা ঈদুল আজহার নামাজ ও কোরবানি সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেন।

এ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া লোকজন জানান, ধর্মীয় বিশ্বাস পালনের স্বাধীনতায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা ও নিরাপত্তা দেয়া হয়েছে। তারা দেশের আলেম-ওলামাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন এই ধরনের তারিখভিত্তিক পার্থক্যে সামাজিক বিভেদ না সৃষ্টি হয়। তাদের দাবি, কোরআন ও হাদিসের আলোকে আলেমদের বসে বৈজ্ঞানিক ও যৌক্তিক সমাধানে পৌঁছাতে হবে যাতে তারিখের এ ধরনের বিভ্রান্তি দূর করা যায়।

নামাজ শেষে পুলিশি তত্ত্বাবধানে মুসল্লিরা নির্বিঘ্নে নিজ নিজ বাড়ি ফিরে কোরবানি কার্যক্রম শুরু করেন। গাবতলী মডেল থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ রাকিব হোসেন বলেন, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে জামাত সম্পন্ন হয়েছে এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। যদিও দেশের অধিকাংশ মানুষ আগামীকাল বৃহস্পতিবার ঈদ উদযাপন করবেন, স্থানীয় এই বিশেষ গোষ্ঠী ধর্মীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় আজকেই তাদের উৎসব সম্পন্ন করেছে। প্রশাসনিক নজরদারি থাকায় পুরো এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় ছিল।

পোস্টটি শেয়ার করুন