খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দুরদর্শী নেতৃত্ব ও আদর্শ অনুসরণ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। তিনি জাতীয় জীবনে তার মূল্যবোধ ও দর্শনকে পুনরায় জাগ্রত করার গুরুত্বও বললেন।
মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল ১১টায় খুলনা প্রেসক্লাবের লিয়াকত আলী মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, খুলনা মহানগর শাখার আয়োজনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত দোয়া মাহফিল, রক্তদান কর্মসূচি ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দলীয় नेता ও নেতা-কর্মীরা।
অ্যাডভোকেট মনা বক্তৃতায় বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মম তান্ডবের মধ্যে জাতিকে সংগঠিত করতে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যে ভূমিকা তিনি রেখেছিলেন তা যুগান্তকারী ছিল। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্ব ও অবদানের ফলে জিয়াউর রহমান ‘বীর উত্তম’ খেতাব পেয়েছিলেন এবং তাঁর অবদান দেশবাসীর স্মৃতিতে অম্লান রয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি গড়ে তুলেছেন। ধর্ম, বর্ণ বা গোত্র নির্বিশেষে সব জনগোষ্ঠীকে একসাথে নিয়ে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন尤其 কৃষি, গ্রামীণ উন্নয়ন ও উৎপাদন বৃদ্ধি করে আত্মনির্ভরশীল অর্থনীতি গঠনে তার অবদান স্মরণীয়।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠানগতভাবে শক্তিশালী করতে সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র ও স্বৈরাচারী প্রবণতার বিরুদ্ধে সতর্ক ও সোচ্চার থাকতে হবে বলে তিনি সবাইকে নরকে আহ্বান জানান।
ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে মনা বলেন, শিক্ষাঙ্গন ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির মূল ক্ষেত্র। তাই ছাত্রদলকে আরও সুসংগঠিত, আদর্শনিষ্ঠ ও জনমুখী সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। মেধা, সততা ও দায়বোধসম্পন্ন নেতৃত্বই একটি শোষণমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন সমাজ নির্মাণে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি জোর দেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খুলনা মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোঃ তাজিম বিশ্বাস এবং সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব হাবিবুর রহমান বিপ্লব। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক বদরুল আনাম খান, মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদিকুল ইসলাম সাদী, মাসুদ পারভেজ বাবু, চৌধুরী হাসানুর রশিদ মিরাজ, মিডিয়া সেলের মিজানুর রহমান মিলটন, রকিবুল ইসলাম মতি, ২৮ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মন্জুরুল আলম, বিএনপি নেতা সাদাত সায়েম এবং সাবেক ছাত্রনেতা মোমশেদুল সজীব।
আলোচনায় মহানগর ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আরিফুর রহমান আরিফ, যুগ্ম আহবায়ক সৈয়দ ইমরান, রিয়াজুল খান মুরাদ, শাকিল আহমেদ, সজল হোসেন, আব্দুল আহাদ শাহিন, এস এম ইউসুফ, আরিফুল ইসলাম, রবিউল ইসলাম, ইমরান সালেহ সিফাত, হিমি বিশ্বাস, হাসিবুর রহমান শোভন, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মেরাজ হোসেন মানিক, মিজানুর রহমান মৃদুল, রাকিবুল ইসলাম সাজিদ, শেখ সামসাদ হোসেন আবিদ, নাসিম রহমান নাহিদ, এনামুল হক মল্লিক, রিফাত ইসলাম, আবু ওবায়দা মাহিম, এম এম মুন্না, এস এম আলমগীর হোসেন, রাকিব হাসান, তারিকুল ইসলাম নকিব, আদনান আব্দুল মান্নান, ফয়সাল বাপ্পি, সাজ্জাদ হোসেন রিপ্পি, ইসমাইল হোসেন, রাকিব হোসেন, রকিবুল ইসলাম, ইসরাইল হোসেন টুটুল, মিথিলা আক্তার, ইমরান মল্লিক, আল আমিন হোসেন, মনিরুজ্জামান আবিদ, মোঃ সোহেল আহমেদ, তারিকুল ইসলাম নাহিদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়। এরপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচিতে অংশ নেন।