শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্পেসএক্স আইপিও: ইলন মাস্কের কোম্পানি মার্কিন পুঁজিবাজারে নামছে

মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তিতে নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে—ইলন মাস্কের মালিকানাধীন স্পেসএক্স মার্কিন পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির উদ্যোগ নিয়েছে। গত বুধবার (৩ জুন) কোম্পানিটি মার্কিন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (এসইসি) তাদের প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) জমা দিয়েছে।

স্পেসএক্সের পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা বাজার থেকে প্রায় ৭৫০০ কোটি ডলার তোলার লক্ষ্য রেখেছে। কোম্পানির মোট বাজারমূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৭৭ হাজার কোটি ডলার। আইপিওতে প্রতিটি শেয়ারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩৫ ডলার এবং বাজারে ছাড়ার জন্য প্রায় ৫৫ কোটি ৫০ লাখের বেশি শেয়ার রাখা হচ্ছে। সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে আগামী ১২ জুনের মধ্যে শেয়ার বিক্রির এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তারা যদি এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সফল হয়, তাহলে ২০১৯ সালে সৌদি আরামকোর করা ২৫৬০ কোটি ডলারের আইপিওর রেকর্ড ভেঙে যাবে—এটি বিশ্বব্যাপী এক দুর্মর্য্য যে বৈশিষ্ট্যের ইঙ্গিত দেবে। ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীরা এখন এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটির জন্য তীক্ষ্ণ আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।

স্পেসএক্সের জন্ম হয়েছিল ২০০২ সালে, যখন তৎকালীন ৩০ বছর বয়সী ইলন মাস্ক মহাকাশ অভিযাত্রাকে বাণিজ্যিক ও প্রযুক্তিগতভাবে সম্ভব করে তুলতে উদ্যোগ নেন। স্পেসএক্স প্রতিষ্ঠার পেছনে মাস্কের অনলাইন ব্যবসা ‘জিপ২’ ও পরে ‘পেপ্যাল’ বিক্রি করে অর্জিত অর্থ বড় ভূমিকা রাখে। প্রথম পর্যায়ে বহু সফল নয়—একাধিক রকেট উৎক্ষেপণে ব্যর্থতার সম্মুখীন হলেও মাস্ক ও তার টিম লক্ষ্য থেকে সরে যাননি। ২০০৮ সালে ‘ফ্যালকন-১’ রকেটের সফল উৎক্ষেপণ স্পেসএক্সকে নতুন দিগন্তে নিয়ে যায় এবং কোম্পানিটি আধুনিক মহাকাশ শিল্পে একটি শক্ত অবস্থান লাভ করে।

বর্তমানে স্পেসএক্সকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য বেসরকারি মহাকাশ সংস্থা হিসেবে অভিহিত করা হয়। আংশিক পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট তৈরি করে তারা মহাকাশ ভ্রমণের খরচ অনেকটাই কমিয়েছে এবং নাসা-র মতো বড় সংস্থার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে কাজ করছে। স্পেসএক্স প্রথম বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে ক্রীতদাস ও লোক পাঠানো এবং রসদ পৌঁছে দেওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেছে। পাশাপাশি ‘স্টারলিংক’ স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তারা বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছে এবং ‘স্টারশিপ’ প্রকল্পে পুরোপুরি পুনর্ব্যবহারযোগ্য বড় রকেট তৈরির কাজ দ্রুত এগুচ্ছে।

এই আইপিও শুধু ইলন মাস্কের বাণিজ্যিক সাম্রাজ্যকে আরও মজবুত করবে না, বরং বেসরকারি মহাকাশ খাতের আর্থিক সম্ভাবনাকে পরীক্ষার মধ্যে ঠেলে দেবে। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি বড় সুযোগ হলেও একই সঙ্গে ঝুঁকি ও প্রত্যাশার মিশ্রণ—স্পেসএক্স কতটা সফলভাবে স্বপ্নকে পুঁজিতে রূপ দিতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, স্পেসএক্সের এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে আরও অনেক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে উচ্চমানের বিনিয়োগ আকর্ষণে উৎসাহিত করবে এবং বৈশ্বিক মহাকাশ অর্থনীতিতে নতুন গতি আনবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন