জ্বালানি জোগান সংকট মোকাবিলা ও আমদানিনির্ভরতা কমাতে আগামী বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বড় ধরনের করসহায়ক প্রণোদনার প্রস্তাব নেয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, গৃহস্থালি সরঞ্জাম ও বৈদ্যুতিক যান (ইভি) নির্মাণে দেশীয় বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করতে বিদ্যমান শুল্ক ও কর সুবিধার মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী স্থানীয়ভাবে কম্পিউটার ও ল্যাপটপ উৎপাদনে বরাদ্দ ভ্যাট অব্যাহতির মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বর্ধিত করার প্রস্তাব চলছে। এছাড়া ব্লেন্ডার, জুসার ও অন্যান্য হোম অ্যাপ্লায়েন্সের যন্ত্রাংশ আমদানিতে থাকা হ্রাসকৃত শুল্ক সুবিধার মেয়াদও ২০৩০ পর্যন্ত বাড়ানোর চিন্তা আছে। এসব পদক্ষেপ লোকাল উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানির চাপ কমাতে সহায়ক হবে।
বৈদ্যুতিক যান ক্ষেত্রে বর্তমানে প্রযোজ্য প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত উচ্চ করের বোঝা কমানোর পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে ইভি তৈরিতে ব্যবহৃত আমদানিকৃত কাঁচামালের উপর শুল্ক ছাড়, ভ্যাট ও আয়কর সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে সরকার ভাবছে। এসব ছাড় ইভি খাতকে দ্রুত প্রতিযোগীণীয় করে তুলতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ (রফটপ সোলার) প্রকল্পের যন্ত্রপাতি আমদানিতে বর্তমানে ৩৬ থেকে ৬৩ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক/করের বোঝা আছে। প্রস্তাবিত বাজেটে এই অনুপাত বড়ভাবে কমিয়ে আনতে চাওয়া হচ্ছে—সম্ভাব্য লক্ষ্য ১৫ শতাংশ পর্যন্ত নামিয়ে আনা। ফলে সৌর স্থাপনের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে স্থানীয় বিনিয়োগ বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে।
আরও এক প্রস্তাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কর অবকাশ বা ট্যাক্স হলিডের মেয়াদ ২০৩৫ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর কথা বলা হচ্ছে। এতে বিনিয়োগকারীরা প্রথম পাঁচ বছর পূর্ণ করমুক্তি পাবে এবং পরবর্তী বছরগুলিতে নির্দিষ্ট হারে করছাড়ের সুবিধা থাকবে। এই দীর্ঘমেয়াদি রেহাই বিনিয়োগ আকর্ষণীয় করে তুলতে সহায়ক হবে।
সৌরবিদ্যুৎ খাতে ইতোমধ্যে উৎপাদন ৫০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে এবং বছরের শেষ নাগাদ এটি দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রকল্পের উচ্চ শুল্কহারেই প্রতিটি মেগাওয়াট স্থাপনে প্রায় ৩ কোটি টাকার বেশি খরচের কারণ বলা হচ্ছে; শুল্ক কমালে এই ব্যয় অনেকটাই হ্রাস পাবে। তবে এক্ষেত্রে স্থানীয় সোলার যন্ত্রাংশ производকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাও জরুরি—অতীতে অসম প্রতিযোগিতার কারণে কিছু প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশীয় উদ্যোগের টিকে থাকার জায়গা সংকুচিত হয়েছিল।
সামগ্রিকভাবে সরকারী নীতিগত এই সহায়তাগুলো আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে এবং দীর্ঘমেয়াদে কর্মসংস্থানও বাড়াতে পারে। কম্পিউটার ও হোম অ্যাপ্লায়েন্স শিল্পে সুবিধার ধারাবাহিকতা থাকলে ভোক্তারা এবং নিয়ন্ত্রিত বাজার দুজনেই উপকৃত হবেন। তবে নীতিনির্ধারকদের উচিত এসব সুবিধার বাস্তব প্রভাব—পণ্যমূল্যে পতন, আমদানির বিকল্প সৃষ্টি ও স্থানীয় শিল্পের প্রতিযোগীতা—নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা যাতে বাস্তব লাভ নিশ্চিত হয় এবং অনবাঞ্চিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রোধ করা যায়।