শনিবার, ৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৩শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডব্লিউএফপি: বিশ্বজুড়ে সাড়ে ৩৬ কোটি মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটের ঝুঁকিতে

জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) জানাচ্ছে, বিশ্বজুড়ে তীব্র খাদ্যসংকটে পড়তে যাচ্ছেন প্রায় সাড়ে ৩৬ কোটি মানুষ।

চলতি বছরের শুরুতে তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনার শিকার ছিল প্রায় ৩২ কোটি মানুষ। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর, ডব্লিউএফপি গত মার্চে সতর্ক করেছিল—যদি তেলের দাম জুনের শেষ পর্যন্ত ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০০ ডলারের কাছাকাছি থাকে, তাহলে অতিরিক্ত প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ তীব্র ক্ষুধার ঝুঁকিতে পড়বে।

শুক্রবার (৫ জুন) ডব্লিউএফপি বলেছে, সংঘাতের প্রভাব নিয়ে করা তাদের পূর্বাভাসগুলো এখন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চাল, গমসহ মৌলিক খাদ্যপণ্যের দাম দ্রুত বাড়ছে, যা already খাদ্য নিরাপত্তা সম্পর্কে উদ্বেগকে তীব্র করেছে।

সংস্থাটি বিশেষ করে হরমুজ ঝেল্লির অচলাবস্থা ও জ্বালানি মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী গতিকে সংকট বাড়ানোর মুখ্য কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন খরচ ও খাদ্যপণ্যের নিজস্ব দাম দুইই বাড়ে—ফলশ্রুতিতে আরও কয়েক কোটি মানুষ মৌলিক খাদ্যসামগ্রী কেনার সক্ষমতা হারাতে পারে।

ডব্লিউএফপির খাদ্য ও পুষ্টি বিশ্লেষণ বিভাগের পরিচালক জ্যঁ-মার্টিন বাউ এএফপিকে বলেছেন, ‘‘প্রায় তিন মাস ধরে যুদ্ধ পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকায় আমাদের পূর্বাভাসগুলো বাস্তবে বদলে যাচ্ছে এবং ঝুঁকিপ্রবণ মানুষের সংখ্যা বাড়ছে।’’

সংস্থাটি বিভিন্ন দেশভিত্তিক পরিস্থিতিও পর্যালোচনা করেছে। এর মধ্যে সোমালিয়ার এক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বছরের শেষ নাগাদ অতিরিক্ত প্রায় ২৫ লাখ মানুষ মৌলিক খাদ্যসামগ্রী কেনার সামর্থ্য হারাতে পারে। গত বছরে দেশটিতে অপরিহার্য চাহিদা মেটাতে অক্ষম মানুষের অনুপাত ছিল প্রায় ৪৭ শতাংশ; চলতি বছরে তা ৬০ শতাংশে পৌঁছতে পারে।

ডব্লিউএফপি’র সতর্কবার্তা অনুযায়ী, جهانی বাজারে জ্বালানি ও খাদ্যসূচক স্থিতিশীল না হলে ও সহায়তা দ্রুত না বাড়ালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। আশা করা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও ত্রাণ সংস্থাগুলো দ্রুত সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে মানবিক সহায়তা জোরদার করবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন