মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈদযাত্রায় সড়ক, রেল ও নৌপথে মৃত্যুর সংখ্যা ৪৩৮

পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপনে দেশের বিভিন্ন পথে ঘরমুখো ও কর্মস্থলে ফিরে আসা মানুষের যাত্রার সময় গত ১৫ দিনে সড়ক, রেল ও নৌপথে মোট ৪৪২টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪৩৮ জন এবং আহত হয়েছেন ১,৩৪০ জন। দেশের গণপরিবহন ও সড়ক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী সংগঠন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

রোববার রাজধানীর ঢাকায় রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি হলে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এই তথ্য তুলে ধরেন। ঈদযাত্রার এ সময়কাল ২১ মে থেকে ৪ জুন পর্যন্ত ছিল, যেখানে এই প্রতিবেদনে ওই ১৫ দিনের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ঈদের ঈদুল আজহায় দেশের সড়কগুলোতে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এই সময়ে ৩৯৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪০২ জন নিহত এবং ১,াংশ ২৯৪ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, রেলপথে ৩১টি দুর্ঘটনায় ২৩ জন নিহত ও ৩০ জন আহত হয়েছেন। নৌপথেও এই তালিকা উদ্বেগজনক ছিল, যেখানে ১৭টি দুর্ঘটনায় ১৩ জনের প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১৬ জন আহত হয়েছেন। গত বছরের ঈদুল আজহারের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, এ বছর দুর্ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে। গত বছরের তুলনায় সড়ক দুর্ঘটনা ৩.৯৫ শতাংশ, প্রাণহানি ৩.০৭ শতাংশ এবং আহতের সংখ্যা ৯.৪৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এবারের ঈদে দুর্ঘটনার শীর্ষে রয়েছে মোটরসাইকেল। এই যানবাহনের কারণে ঘটেছে ১৫৩টি দুর্ঘটনা, যেখানে নিহত হয়েছেন ১৫৯ জন এবং আহত হয়েছেন ১৮০ জন। মোট দুর্ঘটনার প্রায় ৩৮.৮৩ শতাংশই ঘটে মোটরসাইকেল দ্বারা।

দুর্ঘটনায় শিকার অন্যান্য যানবাহনের মধ্যে রয়েছে ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান (২১.৪০ শতাংশ), যাত্রীবাহী বাস (১৬.৫৬ শতাংশ), ব্যাটারিচালিত রিকশা (১২.৩৪ শতাংশ), কার ও মাইক্রোবাস (৭.৮১ শতাংশ), নছিমন-করিমন (৬.৫৬ শতাংশ) এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশা (৬.৪০ শতাংশ)।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দুর্ঘটনার জন্য মূলত সড়ক-মহাসড়কের ত্রুটি, বৃষ্টির কারণ তৈরি গর্ত ও চালকদের আইন অমান্য করা অন্যতম কারনে। কিছু পরিবহন মালিক অতিরিক্ত মুনাফার আশায় ত্রুটিপূর্ণ ও মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন রাস্তায় নামিয়েছেন। চালকদের সংকটের কারণে প্রায় ৮০ শতাংশ যানবাহন একচালকের দ্বারা অবিরাম চালানো হয়, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট দুর্ঘটনার ৪৬.৪৪ শতাংশ সংঘর্ষ, ২৯.১৮ শতাংশ ধাক্কা বা চাপা দেয়া এবং ১৭.২৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ার ঘটনা। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে দেশের জাতীয় মহাসড়কগুলোতে।

মানুষের জীবন ও যাতায়াতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ভোগান্তি কমাতে এসব দুর্ঘটনা প্রতিরোধের জন্য সংক্ষিপ্ত ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নেওয়ার ওপর জোর দেয়া হয়েছে। সংগঠনের মহাসচিব বলেছেন, একটুখানি উৎসাহে ঈদের ১০-১২ দিনের ব্যবধানে দুর্ঘটনা ঠেকানো সম্ভব নয়। এর জন্য গণপরিবহন ব্যবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন দরকার।

সংগঠনটি সরকারের সঙ্গে কাজ করে উন্নত বিশ্বডের মতো আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক সৃষ্টি, প্রযুক্তিনির্ভর সড়ক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু, চালকদের প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি এবং ফিটনেসবিহীন ও ধীর গতির যানবাহন রাস্তায় নামানো বন্ধের দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি, দেশের মহাসড়কগুলোতে ‘স্টার’ মানের সড়ক নিরাপত্তা করিডোর গড়ে তোলার সুপারিশও করা হয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক সচিব ড. এ ওয়াই এম একরামুল হক, সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব অর্পনা রায় দাশ, অর্থ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান রাসেল ও দপ্তর সম্পাদক মো. আলমগীর কবির বিটুসহ অন্যরা।

পোস্টটি শেয়ার করুন